বৈশ্বিক মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের সংকট শিথিল হওয়ায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে বাড়ছে পণ্য রফতানি ও আয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রফতানি আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় ৮৬০ কোটি টাকারও বেশি পণ্য রফতানি করা হয়। ব্যবসায়ী ও বন্দরসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ায় রফতানি আয় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার নেয়ামুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রফতানি হয়েছে ৯৩ হাজার ৩৬০ দশমিক ১১ টন। যার রফতানি মূল্য ৮৬০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় রফতানি হয়েছিল ৬৭ হাজার ৪৪৪ টন পণ্য। যার রফতানি মূল্য ছিল ৭১৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রফতানির পরিমাণ ২৫ হাজার ৯১৬ দশমিক ১১ টন বেড়েছে। অন্যদিকে আয় বেড়েছে ১৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
এ বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য রফতানি হয় তার মধ্যে অন্যতম গার্মেন্টস বর্জ্য, তাঁতের শাড়ি, রাইস ব্র্যান অয়েল, মধু, ক্লিনিক ক্লথ, পাটের সুতা, পাটের চট, নারকেল শলা, প্রাণ জুস, লিচু ড্রিংকস, প্রাণ চানাচুর ও চিপস।
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, রফতানি বা আমদানি উভয় দিক থেকে ভোমরা স্থলবন্দর খুবই সম্ভাবনাময়। খুব সহজে এ বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রফতানি করা যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ভালো, তেমনি এখানে পণ্য বা যানজটও থাকে না। ফলে দেশের বড় বড় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ভোমরা বন্দর ব্যবহার করতে আগ্রহী। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী করোনা সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে। ফলে রফতানি আয় বেড়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজি দিলওয়ার নওশাদ রাজু জানান, গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছর পণ্য রফতানির অবস্থা খুবই ভালো। ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে। তিনি বলেন, ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হয়, সে তুলনায় রফতানির পরিমাণ খুবই নগণ্য। তার পরও তা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম পণ্য আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার জানান, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় তার প্রতিষ্ঠান পণ্য রফতানি বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, গেল অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছর রফতানির পরিমাণ অন্তত ২৫-৩০ শতাংশ বেড়েছে। রফতানীকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে গার্মেন্টস বর্জ্য, সুতার বর্জ্য ও রাইচ ব্র্যান অয়েল।
ভোমরা স্থলবন্দরের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন মন্টু জানান, প্রতি মাসেই বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী রফতানি করে তার প্রতিষ্ঠান। রফতানীকৃত এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রাণ গ্রুপের জুস, লিচু ড্রিংকস, প্রাণ চানাচুর ও চিপস।
এদিকে রফতানি আয় বাড়লেও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে কমছে না রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৯৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৬৬ কোটি ১৫ লাখ, আগস্টে ৮৪ কোটি ৪১ লাখ ও সেপ্টেম্বরে ৯৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গেল তিন মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৫৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৪৪ কোটি ৭৪ লাখ, আগস্টে ৫৫ কোটি ২ লাখ ও সেপ্টেম্বরে ৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ কোটি ১ লাখ টাকা। সূত্রটি আরো জানায়, গেল অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ বন্দরে রাজস্ব আদায় হয় ১৭৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। সে হিসাবেও চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২১ কোটি ৯১ লাখ টাকার রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে।










