২০২৩ সালে চীনের মোট মন্দ ঋণের স্থিতি বেড়েছে। দেশটির সমস্যাগ্রস্ত প্রপার্টি খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এলাকাগুলোর ঋণের চাপ এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ চার ব্যাংক সম্মিলিতভাবে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘বিগ ফোর’ ব্যাংক হলো—ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (আইসিবিসি), ব্যাংক অব চায়না (বিওসি), চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক (সিসিবি) ও এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না (এবিসি)।
চলতি সপ্তাহে ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে তাদের মোট নন-পারফর্মিং ঋণের স্থিতি ১ দশমিক ৩৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে (১৭ হাজার কোটি ডলার) পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের ১ দশমিক ১১৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ান থেকে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ক্রমবর্ধমান মন্দ ঋণ তাদের বটম লাইনে আঘাত করতে পারবে না, কারণ ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচুর প্রবিধান রেখেছে তারা। প্রপার্টি ডেভেলপারদের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
তথ্যমতে, ২০২৩ সালে প্রপার্টি ডেভেলপারদের কাছে আটকে থাকা মন্দ ঋণ বেড়ে ১৮ হাজার ৩৯০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে এর পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ১০ কোটি ডলার। এক্ষেত্রে সিসিবি ও এবিসির মন্দ ঋণের স্থিতি বেড়েছে যথাক্রমে ৪৩ দশমিক ৩১ ও ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে আইসিবিসি ও বিওসি জানিয়েছে, তাদের প্রপার্টি ডেভেলপারদের কাছে মন্দ ঋণের স্থিতি যথাক্রমে ৮ দশমিক শূন্য ৩ ও ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে।
চার ব্যাংক থেকে নির্মাণসামগ্রী বা সম্পত্তি পরিষেবা সংস্থাগুলোকে দেয়া অর্থের মতো মন্দ নির্মাণ ঋণ এক বছর আগের তুলনায় ২০২৩ সালে ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ইউয়ানে। এক্ষেত্রে আইসিবিসি, বিওসি, সিসিবি ও এবিসি ব্যাংকের মন্দ ঋণ যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ৩৮, ৫১ দশমিক ৩৪, ২২ দশমিক শূন্য ২ ও ১৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
গত সপ্তাহের শেষের দিকে এক রেজাল্ট ব্রিফিংয়ে আইসিবিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং জিংউ জানান, ২০২৩ সালে তাদের মোট মন্দ ঋণ ১০ শতাংশ বেড়ে ৩৫ হাজার ৩৫০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালে আইসিবিসির সব মেজর মেট্রিক্স একটি ভালো অবস্থানে আছে। স্থিতিশীলতা বজায় রেখে উন্নতির দিকে রয়েছে আইসিবিসি।’
চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে আর্নিংস কনফারেন্সে এবিসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং জুগুয়াং বলেন, ‘২০২৩ সালে এবিসির মন্দ ঋণের স্থিতি আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ বেড়ে ৩০ হাজার ৮০ কোটি ইউয়ানে পৌঁছেছে। এ ঋণের বেশির ভাগ নিয়েছে প্রপার্টি ডেভেলপার ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ।’
এছাড়া অন্য দুই শীর্ষ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাদের দাবি, ধীরগতির অর্থনীতির কারণে দেশটিতে চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষও ঋণ পরিশোধে জমি বিক্রির ওপর নির্ভরশীল, সাম্প্রতিক সময়ে তারাও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।










