বাজার পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে বিক্রি বেড়েছে ফ্রান্সের ফ্যাশন জায়ান্ট এলভিএমএইচের। ইউরোপসহ বিশ্বের ধনী ক্রেতাদের মধ্যে ফ্যাশন পণ্যের শক্তিশালী চাহিদা প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করেছে। খবর রয়টার্স।
চীনে কভিড-১৯ বিধিনিষেধ শিথিলকরণের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম বিলাসবহুল লুই ভিতোঁর ও ডি’অরের মতো ফ্যাশন ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রিতে বড় ধরনের সাড়া পড়েছে। চীনে বাড়তি ব্যবসা থেকে বড় অংকের মুনাফা পেয়েছে ব্র্যান্ডগুলো। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অলঙ্কার ব্র্যান্ড টিফানি অ্যান্ড কোর বিক্রি ধীর হয়েছে।
এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে বিলাস দ্রব্যের চাহিদা এখন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির চাপের বাইরে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ধনী ভোক্তারা বৈশ্বিক মন্দা ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের কারণে কম প্রভাবিত হয়। ফলে তারা বিবেচনামূলক ব্যয় হ্রাসের বিষয়ে তেমন মনোযোগ দেননি।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্নস্টাইনের বিশ্লেষক লুকা সোলকা মনে করেন, মহামারী থেকে আমরা সুস্থভাবে জীবিত বের হয়ে এসেছি। এটি মন্দা বা আর্থিক সংকটের মতো খারাপ খবরকেও তুচ্ছ করে তোলে। ফলে ক্রেতাদের মনোভাব পরিবর্তন হয়েছে। কেউ নিশ্চয়ই কবরস্থানের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হতে চাইবেন না। তবে পশ্চিমের ভোক্তারা মহামারী পরবর্তী উচ্ছ্বাস থেকে কেনাকাটায় সতর্ক হতে শুরু করেছেন বলেও যোগ করেন তিনি।
এলভিএমএইচের তৃতীয় প্রান্তিকে বিক্রি ১ হাজার ৯৮০ কোটি ইউরোয় পৌঁছেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। যদিও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল এটি ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।
বছরের শুরু থেকে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে সংস্থাটির বিক্রি ব্যাপক আকারে বেড়েছে। এলভিএমএইচ গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় গ্রাহকদের কাছ থেকে চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রতিবন্ধকতা উঠিয়ে দেয়ার ফলে তারা লাভবান হয়েছে।
এদিকে ফ্যাশন ও চামড়াজাত পণ্যের ব্যবসার একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপের দিকে সরে গিয়েছে। কারণ মার্কিন নাগরিকরা ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি উপকৃত হচ্ছেন বলে মনে করেন এলভিএমএইচের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জিন জ্যাক গুইনি।
কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল করার কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হলেও চীনসহ এশিয়ায় বছরের প্রথম নয় মাসে বিক্রি ধীর হয়েছে বলে জানায় কোম্পানিটি। তবে তাদের ফ্যাশন ও চামড়াজাত পণ্য বিভাগ এক বছরের আগের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি বিক্রি বাড়াতে নেতৃত্ব দিয়েছে।
সেফোরা ও বুলগারির মালিকানা প্রতিষ্ঠান এমন সময়ে তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল প্রকাশ করল যখন এ শিল্পের জন্য বিক্রয় মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরের শেষ দুই মাস কেনাকাটার মৌসুম হিসেবে পরিচিত। সুতরাং চতুর্থ প্রান্তিকেও প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।










