কয়েক দশক ধরে পপি চাষের (মাদকদ্রব্যের কাঁচামাল) জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়ে আসছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান। তবে সম্প্রতি দেশটির কৃষি খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিদায়ী বছর জাফরান উৎপাদন ও রফতানিতে রেকর্ড করেছে দেশটি। পাশাপাশি তুলা উৎপাদনে ঝুঁকেছেন দেশটির কৃষকরা। চলতি মৌসুমে দেশটির তুলা উৎপাদন ২১ শতাংশ বেড়েছে। আফগানিস্তানে সরকারি সূত্র সম্প্রতি এ  তথ্য জানিয়েছে। খবর সিনহুয়া ও মেনাএফএন।

তুলা: মোট ৩৪ প্রদেশ নিয়ে গঠিত আফগানিস্তান। এর মধ্যে ১৭টি প্রদেশে তুলা চাষ করা হয়। দেশটির কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে এ প্রদেশগুলো থেকে সব মিলিয়ে ৭৩ হাজার ১১৯ টন তুলা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।

চলতি তুলা উৎপাদন মৌসুমে আফগানিস্তানে অনুকূল আবহাওয়া বজায় ছিল, যা কৃষিপণ্যটির ফলন বৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাতটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ বাড়িয়েছে দেশটির সরকার।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, তুলা উৎপাদনে চাঙ্গা ভাবের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে পরিমিত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়া, যা কৃষকদের পণ্যটির আবাদ বাড়াতে আগ্রহী করে তুলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশটির কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক চেষ্টা। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলাসহ তাদের মধ্যে উন্নত মানের তুলাবীজ সরবরাহ করেছে মন্ত্রণালয়টি। এছাড়া কৃষকদের সহায়তায় ১৪টি প্রদেশে ২০৬টি নির্দেশকমূলক তুলা খামার স্থাপন করেছে দেশটির সরকার।

২০১৯ সালে আফগানিস্তানের ৪৯ হাজার ৩১৭ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদ করা হয়। আগের বছরে পণ্যটির আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৩৯ হাজার ৪৯৬ হেক্টর। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে কৃষিপণ্যটির আবাদি জমি ৯ হাজার ৮২১ হেক্টর বেড়েছে।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে কয়েক দশক ধরে মাত্রাতিরিক্ত খরা ভাব বিরাজ করছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির কৃষি খাত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গৃহযুদ্ধ। গ্রামীণ সমাজে চলমান যুদ্ধ ভাব ও অস্থিতিশীলতা দেশটির কৃষি খাত ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড প্রায় অসাড় করে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে আফগান সরকার কৃষকদের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দেশটির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে।