সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জনপ্রিয় ও প্রধান আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক শহর দুবাই। বিলাসবহুল জীবনযাপন, চোখ ধাঁধানো রঙিন আলোকরশ্মি, আকাশচুম্বী অট্টালিকা, হোটেল, কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জসহ নানা কারণে শহরটি ভ্রমণপিপাসুদের পছন্দের শীর্ষে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে প্রায় ৮১ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক পেয়েছে দুবাই। গত বছরে একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় তিনগুণ। খবর ন্যাশনাল নিউজ।

বাণিজ্য নগরীটির অর্থ ও পর্যটন বিভাগ (ডিইটি) জানায়, মহামারীর সময়ে ভাটা পড়েছিল দুবাইয়ের পর্যটন শিল্পে। তবে ২০২১ সালে তা কিছুটা পুনরুত্থান করা সম্ভব হয়েছে। ওই বছর দেশটিতে ৭২ লাখ ৮০ হাজার পর্যটক এসেছিলেন। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের প্রথমার্ধেই পর্যটকের সংখ্যা ৭১ লাখ ২০ হাজারে উন্নীত হয়। পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমিরাতের অর্থনীতি তার আগের উচ্ছলতা ফিরে পেতে শুরু করেছে।

ডিইটি আরো জানায়, গত জুলাই পর্যন্ত গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) থেকে সবচেয়ে বেশি ২৩ শতাংশ পর্যটক দুবাই ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া ইউরোপ থেকে এসেছেন ২১ শতাংশ, দক্ষিণ এশিয়া থেকে ১৬ শতাংশ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে ১২ শতাংশ এবং রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ থেকে ১১ শতাংশ পর্যটকদের গন্তব্য ছিল দুবাই।

দেশভিত্তিতে জানুয়ারি-জুলাই সময়ে দুবাইয়ে আসা পর্যটকদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল ভারতীয়। দেশটি থেকে পর্যটক এসেছেন প্রায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার। এর পরই রয়েছে ওমানের অবস্থান। দেশটি থেকে দুবাইয়ে পর্যটক এসেছেন ৮ লাখ ৮০ হাজার। এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৭৮ হাজার পর্যটক এসেছেন সৌদি আরব থেকে। এছাড়া যুক্তরাজ্য থেকে ৫ লাখ ৬৮ হাজার এবং রাশিয়া থেকে ৩ লাখ ৪৮ হাজার পর্যটক দুবাই ভ্রমণ করেছে।

তথ্য বলছে, আরব আমিরাত সরকার তাদের পর্যটন খাতকে পুনর্গঠনে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যটক আকর্ষণে দেয়া হচ্ছে নজিরবিহীন সুযোগ-সুবিধা। পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করতে খরচ হচ্ছে শত শত কোটি ডলার। আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ৩০টি রিটার্ন ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে ক্রমবর্ধমান পর্যটকদের সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে হোটেলের কক্ষ থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাও।

আসন্ন শীতে বিগত বছরগুলোর ন্যায় খাতটি শক্তিশালী অবস্থানে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন রশীদ।

ডিইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২২ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। এছাড়া দেশটির পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে গত বছর অক্টোবরে দুবাই এক্সপো হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা পিছিয়ে নতুন শিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত হতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ প্রদর্শনী। এতে শহরটিতে আরো বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।