করোনা মহামারীর কারণে বছরের শুরু থেকে বেশির ভাগ সময় ভারতের স্বর্ণ শিল্প বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সময় পার করেছে। তবে মহামারী পরিস্থিতির অবনতি হলেও চলতি বছরের আগস্টে দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির আমদানি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে আট মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিল্লির জুয়েলারি দোকানগুলোয় স্বর্ণের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয়দের মধ্যে স্বর্ণে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে। মূলত এসব কারণে আগস্টে ভারতের বাজারে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বেড়ে আমদানি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। তবে চলতি অর্থবছরে দেশটি থেকে মূল্যবান রত্নপাথর ও জুয়েলারি রফতানি ২৫-৩০ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও রয়টার্স।

স্বর্ণের ভোক্তা ও আমদানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ভারতীয় আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে ৬০ টন স্বর্ণ আমদানি করেছেন। আগের বছরের একই সময়ে দেশটিতে মোট ৩২ দশমিক ১০ টন স্বর্ণ আমদানি হয়েছিল। সেই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে ভারতের বাজারে স্বর্ণ আমদানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৯ টন। গত আট মাসের মধ্যে আগস্টে মূল্যবান ধাতুটির আমদানি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

চলতি বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৬০ টন স্বর্ণ আমদানিতে ভারতীয় আমদানিকারকদের সব মিলিয়ে ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। ২০১৯ সালের একই সময়ে স্বর্ণ আমদানিতে ভারতীয় আমদানিকারকরা মোট ১৩৭ কোটি ডলার ব্যয় করেছিলেন। সেই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে মূল্যবান ধাতুটির আমদানিতে ভারতীয় আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে ২৩৩ কোটি ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন কঠোর লকডাউনের মধ্যে ছিল ভারত। ওই সময় দেশটিতে স্বর্ণের দোকানগুলো বন্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বর্ণ কেনার আগ্রহ ছিল কম। এখন করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলেও অর্থনীতি রক্ষার স্বার্থে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। খুলতে শুরু করেছে স্বর্ণের দোকান। বিশেষত দিল্লি অঞ্চলে স্বর্ণালংকারের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরাও আগামী দিনগুলোয় মূল্যবান ধাতুটির দাম আরো বাড়তে পারে—এমন মনোভাব থেকে বেশি বেশি স্বর্ণ কিনছেন। মূলত এসব কারণে গত আগস্টে ভারতে স্বর্ণ আমদানি আট মাসের সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে।

এদিকে করোনা মহামারী ও লকডাউনের কারণে ভারত থেকে মূল্যবান রত্নপাথর ও জুয়েলারি রফতানিতে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতের জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের (জিজেইপিসি) আশঙ্কা করছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান রত্নপাথর ও জুয়েলারি রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৫-৩০ শতাংশ কমতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কলিন শাহ বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) পুরোটাজুড়ে ভারতে কঠোর লকডাউন চলেছে। এ সময় মূল্যবান রত্নপাথর ও জুয়েলারি রফতানি প্রায় বন্ধ ছিল। এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো অর্থবছরে। ভারত থেকে এপ্রিলে শুরু হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরে মূল্যবান রত্নপাথর ও জুয়েলারি রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৫-৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে লকডাউন অনেকটাই শিথিল হয়েছে। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম গতি পেতে শুরু করেছে। এমনকি চলতি বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ভারতে স্বর্ণ আমদানি আট মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে। এসব খবর বেশ আশাব্যঞ্জক। তার পরও মূল্যবান রত্নপাথর ও জুয়েলারি রফতানি নিয়ে খুব একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। এর পেছনে বড় একটি কারণ আমদানিকারক দেশগুলোয় অর্থনৈতিক শ্লথতা। করোনা মহামারীতে বেশির ভাগ দেশই ধাক্কা খেয়েছে। মানুষের আয় কমেছে। অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছে। ফলে মূল্যবান রত্নপাথর ও জুয়েলারি কেনার প্রবণতা আগামী দিনগুলোয় কমে আসতে পারে। আর এ পরিস্থিতি চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে মূল্যবান রত্নপাথর ও জুয়েলারির রফতানি কমিয়ে দিতে পারে।