চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন গত বছরের তুলনায় দৈনিক ৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে উত্তোলন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে। উত্তোলনের পরিমাণ দৈনিক ১ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
ইআইএর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছর দেশটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দৈনিক ১ কোটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।
এর আগে ২০১৯ সালে দেশটি রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছিল। উত্তোলনের পরিমাণ ছিল দৈনিক ১ কোটি ২৩ লাখ ব্যারেল। এর পরের বছর কভিড-১৯ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে জ্বালানি তেলের চাহিদায় ধস নামে। অব্যাহত কমতে থাকে দাম। এমন বাস্তবতায় লোকসান এড়াতে উত্তোলন কমাতে বাধ্য হয় তেল কোম্পানিগুলো।
ইআইএ জানায়, উত্তোলন সক্ষমতা ও মূল্যবৃদ্ধির প্রত্যাশায় কোম্পানিগুলো চলতি বছরের শুরু থেকেই উত্তোলন বাড়াচ্ছে। এ কারণেই চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলনের পূর্বাভাস দিয়েছে ইআইএ।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট। চলতি বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত এর গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ ডলারে। ইআইএর দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় গড় দাম বেড়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭ ডলার। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যা এর আগের মাসে দেয়া ১ দশমিক ৫ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ছে। তার ওপর শীর্ষ উত্তোলন সৌদি আরব ও রাশিয়া উত্তোলন ব্যাপক মাত্রায় কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। আর এ কারণে জুন থেকেই জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহত বাড়ছে। নিম্নমুখী উত্তোলন ও ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার প্রভাবে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক মজুদ কমে আসবে। এর প্রভাবে আগামী মাসগুলোয় পণ্যটির বাজার আরো বেশি ঊর্ধ্বমুখী চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছে ইআইএ।
চলতি বছরের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস বাড়িয়েছে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও আগামী বছরের চাহিদা নিয়ে আশাবাদী জোটটি। কারণ চীন ও ভারত অব্যাহত জ্বালানির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।
মাসভিত্তিক এক প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ২৪ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল করে বাড়তে পারে। আগামী বছর চাহিদা প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে দৈনিক ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। এদিকে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী বছর জ্বালানি তেল উত্তোলনও গতিশীল থাকবে। ফলে আগামী বছরের শুরুর দিকে পণ্যটির বৈশ্বিক দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহার দৈনিক ২ লাখ ব্যারেল করে বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ। ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দৈনিক ২ কোটি ৫ লাখ ব্যারেলে। আগামী বছরও দৈনিক ২ লাখ ব্যারেল বেড়ে ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দৈনিক ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলে।
ইআইএর প্রত্যাশা, চলতি বছর ওপেক ও ওইসিডি জোটের বাইরের দেশগুলোয় জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিপুল পরিমাণে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি শিথিল হতে পারে। এর আগে গত মাসে সংস্থাটি জানায়, চলতি বছর পেট্রোলিয়ামের বৈশ্বিক ব্যবহার উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।










