গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধ করার লক্ষ্যে ভবনসহ জমি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পর্ষদ। কোম্পানির রাজধানীর বাংলামটরের ১১২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউতে থাকা ৩৬ দশমিক ১২ ডেসিমল জমি ভাবনসহ বিক্রি করবে। এ বিষয়ে আগেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) অনুমোদন নিয়েছে কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জীবন বীমা তহবিলের আকার দাঁড়িয়েছে ৭১৩ কোটি টাকায়। যেখানে এর আগের বছরের একই সময় কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের আকার ছিল ৭২৬ কোটি টাকার। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বীমা তহবিল কমেছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ কিংবা আলোচ্য হিসাব বছরের জন্য এখনো লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি কোম্পানিটি। কোম্পানিটি সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আগে সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। এর আগে ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় তারা। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রাইম ইসলামী লাইফের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার ২৩০। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৩৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩০ দশমিক ৭৩ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৩ দশমিক ১৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার প্রাইম ইসলামী লাইফের শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৫৯ টাকা ২০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা ও ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা।