দেশের পরিবহন খাত এবং জেনারেটর ব্যবসা প্রসারিত হওয়ায় এ খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড। এনার্জিপ্যাকের এ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে পরিবহন সেবায় জ্যাক, শ্যাকমান পিকঅ্যাপ ভ্যান, ট্রাক অ্যাসেম্বেলিং করছে। এ ব্যবসায় সম্প্রতি আনকাই নামে বাসও বাজারজাত করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে জ্যাকের দেড় টন গাড়িটি মার্কেটে লিড দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা। গাড়ি শিল্পের পাশাপাশি দেশীয় ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি হিসেবে গ্লাড জেনারেটর নিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতা করছে তারা।

গাড়ি শিল্পে দেশে বাজার তৈরি করতে এনার্জিপ্যাক চীন থেকে অত্যাধুনিক যন্ত্র আমদানি করে দেশে বিভিন্ন মডেলের গাড়ি প্রস্তুত করছে। বর্তমানে এনার্জিপ্যাকের কারখানায় ছয় মডেলের গাড়ি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পারকিনস কোম্পানি থেকে জেনারেটর আমদানি করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশে অ্যাসেম্বলিং করছে কোম্পানিটি।

সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুরে এনার্জিপ্যাকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটির দুটি কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, গাড়ি ও জেনারেটর তৈরিতে অন্তত তিন শতাধিক কর্মকতা-কর্মচারী কাজ করছেন। এর মধ্যে ১৫০ কর্মকর্তা কাজ করছেন গাড়ি তৈরিতে। বাকিরা জেনারেটর তৈরিতে।

মাত্র চার বছর আগে দেশে স্থাপিত এ কারখানা থেকে ইতোমধ্যে তিন হাজারের অধিক বিভিন্ন মডেলের গাড়ি বাজারজাত করা হয়েছে। বর্তমানে গাড়ির বাজারে কোম্পানিটির ৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তবে জ্যাকের (দেড় টন) মার্কেট শেয়ার রয়েছে ৭ শতাংশ। এর বাইরে প্রতি বছর দেশীয় বাজারে বিভিন্ন মডেলের অন্তত দেড় হাজার গাড়ি বাজারজাত করছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন (স্বপন) এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের পরিবহন খাতকে সমৃদ্ধ করতে ২০০৬ সাল থেকে আমরা গাড়ি ব্যবসা করছি। এরপর এটি বিস্তৃত হলে ২০১৫ সাল থেকে কারখানা করে গাড়ি অ্যাসেম্বলিং করছি। ব্যবসা শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমানে সড়কে আমাদের ১৬ হাজারের বেশি গাড়ি চলছে। বিশেষ করে দেশে জ্যাক পিকঅ্যাপ নিয়ে আমরা মার্কেট লিড দিচ্ছি। ক্রেতাদের কাছেও এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

করোনাকালীন সময়ে গাড়ি ব্যবসার বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনায় সব ব্যবসার অবস্থা খারাপ। প্রতি বছর দেড় হাজার গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছি। তবে করোনার কারণে এক হাজার গাড়ি বাজারজাত করা হয়েছে।

গাড়ি ব্যবসায় কোম্পানিটির আগামীর পরিকল্পনা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মার্কেটের চাহিদার কারণে গাড়ির উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে বার্ষিক তিন হাজার গাড়ি মার্কেটে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। একই সঙ্গে বর্তমান মার্কেট শেয়ার ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পারকিনসন ব্র্যান্ডের তৈরি করা জেনারেটর দেশে আমদানি করে গ্লাড জেনারেটর নামে বাজারজাত করছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন। ১৯৯৫ সাল থেকে যুক্তরাজ্য থেকে জেনারেটর আমদানি করে দেশীয় বাজারে ব্যবসা শুরু করে কোম্পানিটি। এর পর ২০১৫ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে দেশে অ্যাসেম্বলিং করে বাজারজাত করছে।

গ্লাড জেনারেটর অ্যাসেম্বলিং এবং যুক্তরাজ্যের বাজার থেকে আমদানির মাধ্যমে দেশীয় বাজারে ২০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার রয়েছে কোম্পানিটির। জানা গেছে, প্রতি বছর ৩০০ ইউনিট গ্লাড জেনারেটর বাজারজাত হচ্ছে। দক্ষ প্রকৌশলীর দ্বারা বর্তমানে ২০ কেবিআর থেকে শুরু করে ১ হাজার কেবিআর জেনারেটর তৈরি হচ্ছে কারখানায়। একই সঙ্গে লোড টেস্ট করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

জেনারেটর প্রস্তুত করার জন্য শতভাগ কাঁচামাল ইউরোপের বাজার থেকে আমদানি করছে কোম্পানিটি। তুরস্ক, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বেশির ভাগ পার্টস আমদানি হচ্ছে এসব দেশ থেকে।

কোম্পানির হেড অব সেলস (জেনারেটর) মোহাম্মাদ মাসুম পারভেজ বণিক বার্তাকে বলেন, জেনারেটর ব্যবসায় এনার্জিপ্যাক গত কয়েক বছরে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছে। আমাদের তৈরি গ্লাড জেনারেটর দেশের বিভিন্ন কারখানা, বাণিজ্যিক ভবনে ব্যবহূত হচ্ছে। ক্রেতারা আস্থা পাচ্ছেন। তবে মার্কেটে বড় আকারে অ্যাকসেস না থাকায় চাহিদা সেভাবে বাড়ানো যাচ্ছে না।

দেশে জেনারেটর অ্যাসেম্বলিংয়ে চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে জেনারেটর অ্যাসেম্বলিংয়ের জন্য ছোট ছোট যে পার্টস আমদানি করতে হয়, এগুলো ‘ডিউটি ফ্রি’ দরকার। ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে এসব পণ্য দেশীয় বাজারে আনতে হলে আমদানি করা জেনারেটর কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে হয়। ফলে টিকে থাকার প্রশ্ন এসে যায়।

জানা গেছে, বিদেশ থেকে জেনারেটর আমদানি করে দেশীয় বাজারে ব্যবসা করছে অন্তত ২০/২২টি কোম্পানি। এর মধ্যে মার্কেট বিবেচনায় গ্লাড জেনারেটর নিজেদের অবস্থান সন্তোষজনক পর্যায়ে নিতে না পারলেও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে একমাত্র দেশীয় কোম্পানি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন। দক্ষ প্রকৌশলীসহ শতাধিক কর্মীর মাধ্যমে গ্লাড জেনারেটর বাজারজাত করছে কোম্পানিটি। এছাড়া আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে এক হাজার ইউনিট জেনারেটর বাজারজাতের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।