সৌদি আরবের শ্রমবাজারে নিযুক্ত বিদেশীরা গত মে মাসে ১ হাজার ২৬০ কোটি রিয়াল বা ৩৪০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএএমএ। আরো উল্লেখ করেছে, রেমিট্যান্সের এ অংক দুই বছরের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। খবর আরব নিউজ।
একই প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, মে মাসে সৌদি নাগরিকরা বিদেশে ৬১৮ কোটি রিয়াল রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ শতাংশ বেশি। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে এ অর্থের এ অংক সর্বোচ্চ। এছাড়া আগের মাস মার্চের তুলনায় বৃদ্ধির হার ২৫ শতাংশ।
রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বৃদ্ধিকে কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গতি, উচ্চ বেতন, অর্থ প্রেরণে কম খরচ এবং বিদেশীদের আকর্ষণের সৌদি আরবের কৌশলগত নীতির কথা উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ, বিদেশে শিক্ষা ফি বা স্বাস্থ্যসেবায় খরচ করেছে সৌদি নাগরিকরা।
এক্সপাট ডটকমের তথ্যানুসারে, সৌদি আরবে প্রবাসীদের বেতন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সেখানে একজন নির্বাহী গড়ে বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয় করেন।
গত মাসে বিশ্বব্যাংকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালে উৎস ও প্রাপক দেশগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর কাঠামোগত ও চক্রীয় উভয় দিকই সংস্কার হয়েছে। এর অন্যতম কারণ অভিবাসী কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার, অভিবাসন নীতি, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিনিময় হারের গতিবিধি ও ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন ঘটনা।
বিশ্বব্যাংকের মতে, জিডিপির শতাংশ হিসেবে ২০২৩ সালে সৌদি আরব বিশ্বব্যাপী হিসেবে বহির্মুখী রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিল। মোট আকারের দিক থেকে বিশ্বব্যাপী অর্থ স্থানান্তরের সবচেয়ে বড় উৎস ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর রয়েছে সৌদি আরব ও সুইজারল্যান্ড। এছাড়া শীর্ষ দশে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জি২০ দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার পর রেমিট্যান্স পাঠানোয় সর্বনিম্ন খরচ হয় সৌদি আরবে।
২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রেমিট্যান্সের প্রধান বৈশ্বিক উৎসগুলোয় চার্জ আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বেশি। জি২০ দেশগুলোর মধ্যে চার্জের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে ব্যয়বহুল দক্ষিণ আফ্রিকা ১২ দশমিক ৮ ও এরপর জাপানে ৭ শতাংশ।
২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ রেমিট্যান্স ছিল ভারত, ১১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার। এরপর পাকিস্তান ও বাংলাদেশে যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ও ২ হাজার ২২০ কোটি ডলার। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতার থেকে ভারতের মোট রেমিট্যান্সের ১১ শতাংশ এসেছে।










