মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ কমে চার মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। উৎপাদন ও রফতানিতে ধীরগতির কারণে এমন নিম্নমুখিতা তৈরি হয়েছে। গতকাল রয়টার্সের এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে আসে।
নয়জন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকের মতামতের ওপর ভিত্তি করে এ সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করেছে বার্তা সংস্থাটি। এতে বলা হয়, গত মাসে পাম অয়েলের মজুদ নভেম্বরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৭০ হাজার টনে। গত বছরের আগস্টের পর এটিই সর্বনিম্ন মজুদ।
অন্যদিকে টানা দুই মাস দেশটিতে নিম্নমুখী পাম অয়েল উৎপাদন। মৌসুমী ঝড় ও ভয়াবহ বন্যায় পাম ফল সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এতে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ উৎপাদক দেশটির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নভেম্বরের তুলনায় উৎপাদন ৩ শতাংশ কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৩০ হাজার টনে, যা জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
ডিসেম্বরে দেশটি সব মিলিয়ে ১৫ লাখ টন পাম অয়েল রফতানি করেছে। এক মাসের ব্যবধানে রফতানি কমেছে ১ শতাংশ। কার্গোর তথ্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ওই মাসে চীনে রফতানি সবচেয়ে বেশি কমেছে।
কভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে চীনের নেয়া কঠোর বিধিনিষেধে দেশটিতে গত বছর পাম অয়েলের চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। তবে চলতি বছর চাহিদা ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। কারণ বেইজিং কঠোর নীতিমালা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে বুধবার ফিউচারস মার্কেটে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম কমেছে।
এর আগের কার্যদিবসে যদিও বাজারদর পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চে উঠেছিল। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মজুদ বাড়লেও সরবরাহ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বন্যায় দেশটিতে পাম অয়েল উৎপাদন কমছে। এতে আবারো বেড়ে যেতে পারে পণ্যটির দাম।
বুধবার বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে পাম অয়েলের দাম ৮২ রিঙ্গিত বা ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৪ হাজার ১৭১ রিঙ্গিত বা ৯৪৮ ডলার ৩৯ সেন্টে।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ। বায়োডিজেল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি পাম অয়েল রফতানি সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এতে পণ্যটির বৈশ্বিক সরবরাহ আবারো চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে আবারো লাগামহীন হয়ে উঠতে পারে বাজারদর।










