অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনে শীর্ষ দুই দেশ সৌদি আরব ও রাশিয়া। সম্প্রতি উত্তোলন কমানোর মেয়াদ আরো এক মাস বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সৌদি। সে অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল উত্তোলন কমবে। এছাড়া রাশিয়াও উত্তোলন কথার কথা জানিয়েছে। যার প্রেক্ষিতে টানা ছয় সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখীতায় রয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। খবর রয়টার্স।

অক্টোবরের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য ৩১ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ৪৫ সেন্টে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের জন্য ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের মূল্য ৩২ সেন্ট বেড়ে ৮১ ডলার ৮৭ সেন্টে উন্নীত হয়েছে। দুটি বেঞ্চমার্কই চলতি বছর সবচেয়ে বেশি সময় ধরে মূল্যবৃদ্ধির পথে। ছয় সপ্তাহে ব্রেন্টের মূল্য ১৫ দশমিক ৪ ও ডব্লিউটিআই ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।

চলতি বছরের জুনে জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর মিত্র জোট ওপেক প্লাস সম্মিলিতভাবে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী বছর পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখার বিষয়ে একমত সদস্যদেশগুলো। ওই সময় সৌদি আরব জোটের পাশাপাশি এককভাবেও উত্তোলন কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। উদ্দেশ্য বাজারকে বাড়তি সহায়তা দেয়া। সে সময় শুধু জুলাইয়ের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব। পরবর্তী সময়ে উত্তোলন কমানোর মেয়াদ আরো এক মাস বাড়িয়ে আগস্ট পর্যন্ত নেয়া হয়। এবার তা আরো বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেয়া হলো।

সৌদি আরব সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন কমানোর কথা জানিয়েছে। সামনে আরো কমানোর ঘোষণা দিতে পারে দেশটি। অন্যদিকে, রাশিয়াও আগামী মাসে দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর কথা জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশ ও সহযোগীদের সংগঠন ওপেক প্লাস বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সম্মেলন করেছে। জ্বালানি তেলের ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পিভিএমের জন ইভানস বলেন, ‘পৃথকভাবে জ্বালানি তেল খুবই ভালো। কিন্তু আমরা কয়েক বছর ধরে আলাদাভাবে ব্যবসা করিনি। যদিও মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের বাজার সবার থেকে বিচ্ছিন্ন।’

সম্প্রতি কর্মী সংকটের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তথ্য প্রকাশের পর এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। এছাড়া পরিষেবা খাতের কার্যক্রম কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমবে।

ওয়ান্ডার একজন বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মোয়া বলেন, ‘ডলারের মান বাড়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে শ্রমবাজারের সংকটে ফেডারেল সুদহার বাড়ানোসহ সার্বিক বিষয়ে আরো কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে কিনা সেটাই সবার প্রশ্ন।’

ইউরোজোনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম জুলাইয়ে পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদহার বাড়িয়ে ১৫ বছরের সর্বোচ্চে নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, নভোরোসিস্কে রাশিয়ার ব্ল্যাক সি নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা হয়। বন্দরটি দিয়ে বিশ্বে জ্বালানি তেলের মোট চাহিদার ২ শতাংশ সরবরাহ করা হয়। হামলায় বন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।