তিন বছরের মধ্যে ব্যাপক হারে কয়লা উত্তোলন বাড়াবে চীন। গত বছরের ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এ পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি। এতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দেশটির কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ভেস্তে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর এপি।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় চীনে সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ হয়। ফলে বৈশ্বিক ঊষ্ণায়ন বৃদ্ধিতে দেশটির দায়ও সবচেয়ে বেশি। ২০৬০ সালের মধ্যে নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে চীন। এ লক্ষ্যে দেশটি বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগও করেছে। কিন্তু গত বছরের শেষ দিকে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চীন সরকার আরো বেশি পরিমাণে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দেশ দেয়। ফলে কমার পরিবর্তে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটিতে কার্বন নিঃসরণ আরো তীব্র গতিতে বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৫ সালের মধ্যে বার্ষিক কয়লা উত্তোলন ৪৬০ কোটি টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের। চীনের মন্ত্রিপরিষদের ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নির্বাহী পরিচালক রেন জিংডং এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন। গত বছর দেশটি ৪১০ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করেছিল। সে হিসেবে বার্ষিক উত্তোলন ১২ শতাংশ বাড়বে।
চলতি মাসের প্রথম ছয় মাসে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। অথচ দেশটির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির জন্য কয়লার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ বছর বেইজিং কয়লা উত্তোলন ৩০ কোটি টন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যা গত বছরের মোট উত্তোলনের প্রায় ৭ শতাংশ।
এদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর ভরসা করে থাকা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রীষ্মে মাত্রাতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে চীনের দক্ষিণাঞ্চলের জলাধারগুলোয় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গিয়েছে। এতে দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে সিচুয়ান ও ছিংছু প্রদেশ।
রেন বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বজায় থাকবে। পাশাপাশি চীন জ্বালানি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নে জোর প্রয়াস চালাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনার লক্ষ্য যাতে বাস্তবায়ন হয়, সেটি নিশ্চিতের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকারসংশ্লিষ্টরা। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ২০ শতাংশে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে বায়ু, সৌর, জল, নিউক্লিয়ার ও জিওথার্মাল বিদ্যুৎ। সর্বোপরি চীন একটি বৃহৎ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সরবরাহ নেটওয়ার্কও তৈরি করবে।
মন্ত্রিপরিষদের পরিকল্পনা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাও চেনসিং বলেন, চীনের উত্তরাঞ্চলে গোবি মরুভূমিতে ৪৫ কোটি কিলোওয়াট সক্ষমতার বৃহৎ বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণও এ পরিকল্পনার অংশ।
সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বেইজিং এরই মধ্যে কয়েক হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে। উদ্দেশ্য জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করা। ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ খাতে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছিল তার অর্ধেকই এসেছে চীন থেকে। এর পরও অদূর ভবিষ্যতে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৬০ শতাংশই হবে কয়লা থেকে।










