সীমিত সরবরাহের কারণে বেড়েছে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক দাম। তবে সরবরাহ কম থাকলেও এসব পণ্যের চাহিদা সে অনুপাতে বাড়ছে না। এ কারণে মূল্যবৃদ্ধির গতিও কিছুটা ধীর। আগামী বছর থেকে দ্রুতগতিতে বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) নিলামে মঙ্গলবার দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩২৩ ডলারে। গত মাসের শেষ নিলামে দাম অপরিবর্তিত ছিল। এদিকে চলতি মাসের প্রথম নিলামে দাম বাড়লেও বিক্রি কমেছে।

বিশ্লেষকরা জানান, চলতি বছরের বড় একটি সময়জুড়ে দুগ্ধপণ্যের দাম নিম্নমুখী ছিল। তবে বর্তমানে বাজার পুনরুদ্ধারের দিকে এগোচ্ছে। আগামী মাসগুলোয় এসব পণ্যের সরবরাহ ও চাহিদায় ভারসাম্য পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

প্রতি মাসে দুবার দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক বাজার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে বড় নিলাম বসে। ফন্টেরা কো-অপারেটিভ গ্রুপ নিলামের আয়োজন করে। বিশ্বের বড় বড় দুগ্ধপণ্য প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ নেয়। মঙ্গলবার সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের নিলামে ১৬৮ ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেন। এর মধ্যে ১২৩ জন সর্বোচ্চ দামে দুগ্ধপণ্য কিনতে সক্ষম হন। নিলামে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৩৬৭ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৯ হাজার ৫৫৯ টন। আগের নিলামের তুলনায় বিক্রি প্রায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। 

সর্বশেষ নিলামের তথ্যে দেখা গেছে, অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট ছাড়া সব পণ্যেরই দামই বেড়েছে। জিডিটি নিলামে সবচেয়ে প্রভাবশালী পণ্য ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধ (ডব্লিউএমপি)। পণ্যটি থেকে সরাসরি লাভবান হন খামারিরা। এটির দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৩ হাজার ১০৪ ডলারে। 

এদিকে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের (এসএমপি) দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের দাম দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭১ ডলারে। আগের নিলামের তুলনায় ল্যাকটোজের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৭৯৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাখনের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৯৩৬ ডলারে। মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ২ হাজার ৩৮৭ ডলারে।

এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চেডার পনিরের দাম। এটি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৯৮৬ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। তবে অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম ৫ হাজার ৫৭৩ ডলারে অপরিবর্তিত ছিল।

চীন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দুগ্ধপণ্য আমদানিকারক। বড়দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে এসব পণ্যের চাহিদা। আগামী বছরের শুরুতেও চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকবে। ফলে দাম যেমন বাড়বে তেমনি ব্যবসায়ীদের মুনাফা মার্জিনেরও ওপর থেকে চাপ কিছুটা কমে আসবে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান রাবোব্যাংক এক প্রতিবেদনে জানায়, অনিশ্চিত ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক দাম। তবে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, অস্থিতিশীল জ্বালানির বাজার, দুর্বল সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা দুগ্ধপণ্যের বাজারকে ঝুঁকির মুখেও ফেলতে পারে।