কভিড-১৯ মহামারী-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ও সীমান্তে কড়াকড়ি শিথিল হওয়ার পর বিশ্বজুড়েই বেড়েছে মানুষের ভ্রমণের পরিমাণ। পর্যটন স্থানগুলোয় জনসমাগম বাড়ায় সংশ্লিষ্ট দেশে রাজস্ব আয় বেড়েছে। এ অবস্থায় চলতি বছর মুনাফা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্রের পেমেন্ট পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। মূল্যস্ফীতির পরও ভিসা, মাস্টার কার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেসের মতো কোম্পানিগুলোর মুনাফা প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর মুনাফায় উল্লম্ফন প্রত্যাশার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ব্যবসায়িক ভ্রমণ বৃদ্ধি। পাশাপাশি বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রমণের প্রবণতা বেড়েছে। আর কোথাও বেড়াতে যাওয়ার জন্য ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও বেড়েছে। স্বভাবতই কোম্পানিগুলো মুনাফা বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে।

ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মোশ কাতরি বলেন, ভোক্তা চাহিদার ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। ভিসা ও মাস্টারকার্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত সীমান্ত-বহির্ভূত লেনদেনের পরিমাণ প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি।

সীমান্ত-বহির্ভূত লেনদেন ক্রেডিট কার্ডের মুনাফা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ লেনদেনের মাধ্যমে বোঝা যায় যে, দেশের বাইরে বা অন্য দেশে বসে কেমন পরিমাণে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহূত হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভ্রমণ চাহিদা কমেছে। এর মধ্যেও যারা ভ্রমণে যাচ্ছেন তাদের গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ অর্থ বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস হোল্ডিংস, ডেল্টা এয়ারলাইনস চলতি বছরের বাকি দিনগুলোর জন্য শক্তিশালী মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছে। এর অর্থ হলো, বিলাসবহুল উড়োজাহাজ ভ্রমণেরও চাহিদা বাড়ছে।

মুদ্রা বিনিময়ের সময় ডলারের মূল্যের ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ হিসাব করে কার্ড কোম্পানিগুলো। ফলে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে এ কোম্পানিগুলোর মুনাফাও বেড়ে যায়। কিন্তু উচ্চ সুদহার ও মূল্যস্ফীতি ভোক্তা ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে মন্দার দিকেও নিয়ে যেতে পারে।

তবে অর্থনীতির এ পরিস্থিতি এখনো তুলনামূলক ভালো আর্থিক অবস্থার ভোক্তাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। অর্থাৎ ধনী ভোক্তাদের ব্যয়ে এখনো তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। যেমন আমেরিকান এক্সপ্রেসের মূল গ্রাহকরাই হলেন ধনী। যাদের ওপর মূল্যস্ফীতির তেমন প্রভাব পড়ছে না। ফলে আমেরিকান এক্সপ্রেসও তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

তবে এরই মধ্যে আমেরিকান এক্সপ্রেসের শেয়ারদর কমেছে ১২ শতাংশ। অন্যদিকে মাস্টারকার্ডের কমেছে ১৭ শতাংশ ও ভিসার ১৪ শতাংশ।