ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন কারণে বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সম্প্রতি বিভিন্ন শস্য ও কৃষিপণ্য রফতানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা অন্যতম। এসব সমস্যার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের শস্য বাজার প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ) আগস্টের শস্য উৎপাদন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন গমের উৎপাদন বেশি হবে এবং বসন্তকালীন গমের উৎপাদন কম হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে গত জুলাই থেকে ভুট্টা ও সয়াবিন উৎপাদনের পূর্বাভাস কম হলেও ঐতিহাসিকভাবে বেশি থাকার পূর্বাভাসও দেয়া হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড গ্রেইনের সহকারী প্রকাশনা মিলিং অ্যান্ড ব্রেকিং নিউজ বিশ্লেষকদের বরাতে জানায়, চ্যালেঞ্জিং বসন্তের পরে মার্কিন আবহাওয়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফসলের ফলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সে প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে।

শস্য ও তেলবীজের বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ১৭ জুলাইয়ের কাছাকাছি সময়। সে সময় রাশিয়া-ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগর বন্দরগুলো থেকে শস্য রফতানির অনুমতি প্রদানকারী চুক্তিটির নবায়ন নাকচ করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেনীয় বন্দর ও দানিউব নদী পথে শস্য পরিবহন সুবিধা হুমকির মুখে পড়ে। কৃষ্ণ সাগর শস্য চুক্তি না হওয়ায় ইউক্রেন বন্দরগামী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও সামরিক মালামাল বহনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

অতি সম্প্রতি রাশিয়া একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর গোলাবর্ষণ করে এবং জাহাজটি থামিয়ে তল্লাশি চালায়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই শস্যের ভবিষ্যৎ বাজার, প্রধানত গমের বাজার সামান্য ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অল্প সময়ের ব্যবধানেই তা নিম্নমুখী হয়। 

নিকটবর্তী কানসাস সিটিতে গমের ভবিষ্যৎ বাজার ২৪ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রতি বুশেল ১ ডলার ৮১ সেন্ট বা ২০ শতাংশ কমেছে। মিনিয়াপোলিসে প্রতি বুশেল ১ ডলার ৪৯ সেন্ট বা ১৬ শতাংশ কমেছে ও ২৫ জুলাই থেকে শিকাগোয় কমেছে ১ ডলার ৬১ সেন্ট বা ২১ শতাংশ।

যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটিও অতিরিক্ত বুশেল শস্য বিক্রি করেনি উল্লেখ করে অ্যাডভান্সড ইকোনমিক সলিউশনস ওমাহা নেবের প্রেসিডেন্ট বিল ল্যাপ বলেন, ‘বাজারগুলো কৃষ্ণ সাগরের (পরিস্থিতি) কারণে অনেকবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ 

স্টোনএক্সের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা মাইক ওডিয়া একমত পোষণ করে বলেন, ‘ব্ল্যাক সির হেডলাইন নিয়ে প্রচুর ভোগান্তি রয়েছে। সবাই মনে করে রাশিয়া গম পাঠাবে।’

এক মাসের মধ্যে মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থান সব ধরনের শস্য রফতানির জন্য নেতিবাচক ছিল। কারণ এর ফলে মার্কিন পণ্যের জন্য অন্যান্য দেশের ব্যয় বেড়েছে, বিশেষ করে গমের বাজারে দুর্বল রাশিয়ান রুবলের নিম্নমূল্যের কারণে ডলারের বিনিময়ে গম রফতানি উৎসাহিত হয়।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস মতে, ২০২৩ সালে মার্কিন গমের উৎপাদন ১৭৩ কোটি ৪০ লাখ বুশেল হতে পারে, যা জুলাইয়ের পূর্বাভাস থেকে ৫০ লাখ বুশেল কম। তবে ২০২২ সালের ১৬৫ কোটি বুশেল থেকে ৮ কোটি ৪০ লাখ বুশেল বা ৫ শতাংশ বেশি। রয়টার্সের বিশ্লেষকদের ১৭৩ কোটি ৯০ লাখ বুশেলের গড় পূর্বাভাস থেকে তা সামান্য কম।