জীবাশ্ম জ্বালানির প্রকল্পগুলোয় বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে বিপি। এ নিয়ে ব্রিটিশ বহুজাতিক জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানিটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। পরিকল্পনা অনুসারে, আগামী বছর প্রতিষ্ঠানটি নবায়নযোগ্যের তুলনায় জ্বালানি তেল ও গ্যাস প্রকল্পে দ্বিগুণ বিনিয়োগ করবে।

দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপি জ্বালানি তেল ও গ্যাস প্রকল্পের জন্য ৭৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। যেখানে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে সংস্থাটি ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। সংস্থাটি আগামী বছর জ্বালানি তেল ও গ্যাস, পরিশোধন এবং জৈব জ্বালানি প্রকল্পের মতো হাইড্রোকার্বনে ১০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় বাড়ানোর আশা করছে।

বিপির পরিকল্পনা অনুসারে, ২০২১ সালে বিপির মূলধন ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। চলতি বছর এ ব্যয় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার এবং ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বার্ষিক ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় করবে বলে আশা প্রতিষ্ঠানটির। চলতি বছর হাইড্রোকার্বনে সংস্থাটির বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৯০০ কোটি ডলার। ২০২৩-২৫ সালের মধ্যে এ বিনিয়োগ ৯০০ থেকে ১ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হবে। এর মধ্যে বার্ষিক ৭৫০ কোটি ডলার জ্বালানি তেল ও গ্যাস প্রকল্পে যাবে।

প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩-২৫ সালের মধ্যে কম কার্বন নিঃসরণ জ্বালানি প্রকল্পে বার্ষিক ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। পাশাপাশি দশকের দ্বিতীয়ার্ধে এ বিনিয়োগ বার্ষিক ৪০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য সংস্থাটির। এছাড়া কনভেনিয়েন্স ও মোবিলিটি বিভাগে আরো ২০০-৩০০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে বিপি। এর মধ্যে ফুয়েল স্টেশন ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি চার্জিং ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নবায়নযোগ্য শিল্পে দ্রুত অগ্রসর না হওয়ার জন্যও সংস্থাটি সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। পরিবেশ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডস অব দি আর্থের নীতি বিভাগের প্রধান মাইক চাইল্ডস বলেন, আপনার অর্থ ব্যয়ের পরিমাণই বলে দেয় যে আপনি কোনটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এটি দুঃখজনক যে জলবায়ু জরুরি অবস্থার মধ্যেই বিপি পরিবেশবান্ধব ও নবায়নযোগ্যের পরিবর্তে পৃথিবী উষ্ণায়নে অবদান রাখা জীবাশ্ম জ্বালানিতে লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।