আবুধাবির টি-টেন ক্রিকেট লিগের বাংলাদেশী ফ্র্যাঞ্চাইজি বাংলা টাইগার্স। ২০১৯ সালে প্রথম পর্বে তৃতীয় স্থান অধিকার করে চট্টগ্রামের এফএমসি গ্রুপের মালিকানাধীন দলটি। এ টিমের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পায় ভারতের মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্পেসবার নামের একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা। কিন্তু এত দিনেও দলটির জন্য করা কাজের অর্থ পরিশোধ করেনি এফএমসি। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আইনি নোটিসও দেয়া হয়েছে। তবে সন্তোষজনক উত্তর ও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় আইসিসি, বিসিবি ও টুর্নামেন্ট কমিটির কাছে অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা। পাশাপাশি এফএমসির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে স্পেসবার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৭ সালে এ টুর্নামেন্ট শুরু হয়। ২০১৯ সালে এতে যুক্ত হয় চট্টগ্রামভিত্তিক জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এফএমসি গ্রুপের মালিকানাধীন বাংলা টাইগার্স। তৃতীয় সংস্করণে দলটি কোচিং স্টাফ সাজায় বাংলাদেশীদের দিয়ে। বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী খেলোয়াড়ও বাংলা টাইগার্সের জার্সিতে অংশ নেন।
চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করা, ফ্র্যাঞ্চাইজির কার্যক্রম সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রথম আসরের পর স্বেচ্ছায় বাংলা টাইগার্স ছেড়েছেন খেলোয়াড়সহ বাংলাদেশী কোচ ও স্টাফরা। এরই মধ্যে কো-পার্টনার, ম্যানেজার, কোচসহ কোনো বাংলাদেশী এখন বাংলা টাইগার্সের সঙ্গে নেই। চুক্তি মতো অর্থ পরিশোধ না করায় স্বেচ্ছায় পদ ছেড়েছেন আফতাব-নাফিসরাও।
স্পেসবার মূলত মুম্বাইভিত্তিক একটি ফার্ম। তবে ভারতের আইপিএলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। ভারতীয় এ প্রতিষ্ঠানের অর্থ পরিশোধ না করার বিষয়ে পাঠানো আইনি নোটিস ও আনুষঙ্গিক নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি দুবাইয়ের ইব্রাহিম অ্যান্ড পার্টনার্সের মাধ্যমে নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের সিভিল কোডের ২৮২, ২৭৪, ৮৯৪ ধারা লঙ্ঘনের কারণে এফএমসিকে এ নোটিস দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৭১ দিরহাম পরিশোধ না করলে অর্থ পরিশোধের দায় ছাড়াও মেধাস্বত্ব আইনেও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেসবার। এছাড়া দাবীকৃত অর্থের সঙ্গে ১২ শতাংশ করে গত দুই বছরের সুদসহ পেতে আইনি আশ্রয় নিতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, গেল আসরে বাংলা টাইগার্সের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিম। দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন আফতাব আহমেদ, সহকারী কোচ হিসেবে ছিলেন সাবেক ব্যাটসম্যান নাজিমউদ্দিন। আরেক সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল ছিলেন ম্যানেজারের দায়িত্বে। প্রথম আসরের বকেয়া পরিশোধ না করেই দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশী পরামর্শক-কোচ-স্টাফদের কাজ করার প্রস্তাব দেয় দলটি। কিন্তু অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত জটিলতায় প্রথম আসরের পর আর কোনো বাংলাদেশী কোচিং স্টাফ বাংলা টাইগার্সের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী হয়নি। এছাড়া প্রথম আসরের কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিমের পারিশ্রমিক নিয়েও সমস্যা হয় বাংলা টাইগার্সের সঙ্গে।
যোগাযোগ করা হলে স্পেসবারের স্বত্বাধিকারী কোনাল রঞ্জন বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশী এক বন্ধুর মাধ্যমে টি-টেন লিগের বাংলাদেশী ফ্র্যাঞ্চাইজি বাংলা টাইগার্সের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা দলটির সব ধরনের লোগো, সোস্যাল মিডিয়া কাভারেজ, ভিডিওগ্রাফি, টি-শার্ট ডিজাইনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কাজ করে দিই। কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটি আমাদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেনি। এ ধরনের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার সুযোগ থাকে। যে কারণে আমরা নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকেরও কম মূল্যে প্রথম আসরের কাজ করে দিই। তবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের পর এফএমসি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমরা এরই মধ্যে ’ল ফার্মের মাধ্যমে আইনি নোটিস পাঠিয়েছি। সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তারা জবাব দেয়নি। অর্থ উদ্ধারে আমরা আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আইসিসি, বিসিবিসহ টুর্নামেন্ট কমিটিকে এ বিষয়ে অবগত করব।
ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পরিশোধ না করা ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে এফএমসি গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইয়াসিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্পেসবারের নোটিসের জবাব দিয়েছি। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি অর্থ নেয়া, প্রতারণার অভিযোগে দুবাইয়ে আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে টি-টেন লিগের সঙ্গে বিসিবির সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন বিসিবির পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় ওই লিগে খেলতে চাইলে বিসিবিতে আবেদন করে। আমরা এনওসি প্রদান করি। এক্ষেত্রে কেউ প্রতিশ্রুত অর্থ পেল কি পেল না, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। এর পরও কোনো খেলোয়াড় বা প্রতিষ্ঠান বিসিবিতে অভিযোগ জানালে আমরা বিষয়টি যৌক্তিক পন্থায় সমাধানের চেষ্টা করব।










