আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো পণ্যটির দাম কমল। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার মধ্যে ছিল জ্বালানি তেলের বাজার।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বের প্রধান ভোক্তা দেশগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি রুখতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় দেশগুলো কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে। এর পরই পণ্যটির দাম কমতে শুরু করে। এছাড়া চীনে অব্যাহত লকডাউনের কারণেও দাম কমছে।
তথ্য বলছে, সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস ইউরোপে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ৩৮ সেন্ট কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ১০২ ডলার ৪০ সেন্টে।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১৬ সেন্ট কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৯৮ ডলার ১৮ সেন্টে। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইর দাম ১ শতাংশ কমেছিল।
বাজারসংশ্লিষ্টরা চীনের অবস্থার ওপর নজর রাখছেন। দেশটির ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহর সাংহাইয়ে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শহরটিতে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ। লকডাউনে দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমেছে। এটি প্রভাব ফেলছে আন্তর্জাতিক বাজারে।
এদিকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সিভুক্ত (আইইএ) দেশগুলো তাদের মজুদ থেকে বাজারে ছয় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুদ থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল সরবরাহের ঘোষণা দেয়। উদ্দেশ্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ। সম্প্রতি সংস্থাটির পরিচালক এসব কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রসহ ৩১টি শিল্প উন্নত দেশ আইইএর সদস্য। তবে এ সংস্থায় রাশিয়া নেই। সংস্থাটি এ নিয়ে মাসে দ্বিতীয়বারের মতো মজুদ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে যাচ্ছে। জোটটির ইতিহাসে এটি হবে পঞ্চমবারের মতো মজুদ উন্মুক্তকরণ। মূলত প্রতিবারই জ্বালানি বাজারে সংকট মোকাবেলায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।
আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল এক টুইটে বলেন, আইইএ বর্তমানে সমষ্টিগতভাবে ১২ কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেলের মজুদ উন্মুক্ত করার পথে এগোচ্ছে।
এর মধ্যে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কোটি ব্যারেলও রয়েছে। সংস্থাটির জন্য এটিই সর্বাধিক সরবরাহের ঘোষণা।
যুক্তরাষ্ট্রের খাতসংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা জানান, প্রতি মাসে দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল করে সরবরাহের যে পরিকল্পনা, তাতে সম্পূরক হিসেবে ভূমিকা রাখবে এসব জ্বালানি তেল। এছাড়া বছরের শেষ সময় পর্যন্ত বাজারে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে এ মজুদ। বছর শেষে উত্তোলন বাড়বে বলেও ইঙ্গিত দেন তারা।










