আর্মেনিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশী দক্ষ জনবল নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি আশরাফ আহমেদ। গতকাল আর্মেনিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নারেক তেরিয়ানের নেতৃত্বে এন্টারপ্রাইজ আর্মেনিয়ার চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। ডিসিসিআইয়ের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে প্রতিনিধি দলটির দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে ও দক্ষিণ-এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোয় বাংলাদেশী প্রকৌশলী ও নির্মাণকর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। এ খাতে আমাদের প্রচুর দক্ষ জনবল রয়েছে, যারা আর্মেনিয়ার অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে সক্ষম।’ 

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ তরুণ জনশক্তি তৈরি করছে উল্লেখ করে আর্মেনিয়ার উদ্যোক্তাদের এ খাতে বাংলাদেশী দক্ষ জনবল নিয়োগের আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী থাকায় একটি বৃহৎ ভোক্তাশ্রেণী রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আর্মেনিয়ার উদ্যোক্তারা এদেশে সম্ভাবনাময় খাতগুলোয় বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যকার মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বাংলাদেশের এলডিসি-পরবর্তী সময়ে আর্মেনিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে পণ্য রফতানীকরণে আরো মনোযোগী হওয়া দরকার।’ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উন্নয়নে দুদেশের মধ্যকার ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুকরণের ওপর তিনি জোরারোপ করেন।        

বৈঠককালে আর্মেনিয়ার অর্থমন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী নারেক তেরিয়ান বলেন, ‘আর্মেনিয়ার প্রকৌশলী, স্থপতি ও দক্ষ নির্মাণকর্মী প্রয়োজন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও দেশের দক্ষ জনবল প্রয়োজন। এ খাতে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণদের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।’ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের মধ্যকার সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে দুদেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ‘জয়েন্ট চেম্বার’ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। 

আর্মেনিয়ার উপমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সিআইএস (কমনওয়েলথ ইনডিপেনডেন্ট স্টেটস), ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর ও সার্বিয়ার সঙ্গে আর্মেনিয়ার এফটিএ রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সেপা চুক্তি রয়েছে। যে সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা হাই-টেক  ও তথ্যপ্রযুক্তি, স্মার্ট এগ্রিকালচার, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন, টেক্সটাইল, পাদুকা এবং ওষুধ খাতে আর্মেনিয়ায় বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে।

ডিসিসিআই গুলশান সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি মালিক তালহা ইসমাইল বারী, সহসভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।