বিশ্বব্যাপী তাপীয় কয়লা, আকরিক লোহা ও তামার মূল্য পূর্বাভাস বাড়িয়েছে মার্কিন ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস। সংস্থাটি জানিয়েছে, খনি খনন ও অনুসন্ধান খাতে বিনিয়োগ কমে এসেছে। এর ধারাবাহিকতায় সরবরাহ কমবে কয়লা ও শিল্প ধাতুর। জ্বালানিটির দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়বে ইস্পাতসহ বিভিন্ন বিগলন কারখানায় উৎপাদিত ধাতব পণ্যের দরেও। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
সর্বশেষ পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী বছর আকরিক লোহার দাম দাঁড়াবে টনপ্রতি ৯৫ ডলারে। চলতি বছরের চেয়ে ২০২৪ সালে ধাতুটির মজুদ কিছুটা বেড়ে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে মধ্যমেয়াদে ভারসাম্য আসতে পারে। এর আগে প্রাথমিক পূর্বাভাসে ২০২৪ সালের প্রতি টন আকরিক লোহার সম্ভাব্য দাম ৮৫ ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছিল ফিচ।
ফিচ রেটিংস বলছে, ‘উচ্চ উৎপাদন খরচের কারণে আমরা কোকিং কয়লা নিয়ে আমাদের ২০২৩-২৪ মৌসুমের মূল্য পূর্বাভাস বাড়িয়েছি। ২০২৩ সালের তামার মূল্য পূর্বাভাসও আমরা বাজারদরের সঙ্গে হালনাগাদ করেছি। পাশাপাশি শিল্প ধাতুটির ২০২৪ সালের মূল্য পূর্বাভাসও বাড়িয়েছি।’ এ সময় সরবরাহ স্বল্পতার আশঙ্কায় ধাতুটির মূল্য পূর্বাভাস ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার ৩০০ ডলার নির্ধারণ করেছে ফিচ।
তবে আগামী বছরের জন্য নিকেলের মূল্য পূর্বাভাস ১৯ হাজার থেকে কমিয়ে ১৮ হাজার ডলারে নামিয়েছে সংস্থাটি। ধাতুটির বৈশ্বিক মজুদ উদ্বৃত্তের কারণে ২০২৪ সালে দামের পূর্বাভাস সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধাতুর মূল্য পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে ফিচ।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তামার চাহিদা ২০২৪ সালে ধীরে ধীরে বাড়বে। কারণ বিশ্ব এখন পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানিতে (গ্রিন এনার্জি) রূপান্তরের দিকে ঝুঁকছে। আর পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে সোলার প্যানেল ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) খাতে তামার ব্যবহার বাড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের শীর্ষ তামা উত্তোলক পানামার বৃহত্তম তামা খনি কোব্রে পানামায় উত্তোলন বন্ধ ছিল। দেশটিতে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে কানাডাভিত্তিক খনি অনুসন্ধান ও খনন প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট কোয়ান্টাম মিনারেলস লিমিটেড উত্তোলন স্থগিত রাখে। ফলে ধাতুটির সরবরাহ চেইনে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তামার বাজারে মধ্যমেয়াদি ভারসাম্য আসতে পারে।
ফিচ রেটিংস বলছে, ‘আমাদের উচ্চ স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাস অনুসারে ধাতব কয়লার (কোকিং কোল) উত্তোলন খরচ বাড়ায় দাম বেড়ে যাবে। আগামী বছর নাগাদ চীনের ইস্পাত শিল্পে কয়লার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্রপথে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
সব ধরনের অ্যালুমিনিয়াম, দস্তা ও স্বর্ণের মূল্য পূর্বাভাস অপরিবর্তিত। বাজারদরও আমাদের পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমরা চীন ও অস্ট্রেলিয়ার উভয় বাজারেই তাপীয় কয়লার মূল্য পূর্বাভাস বাড়িয়েছি। ২০২৪ সালের জন্য চীনের বাজারে তাপীয় কয়লার প্রাথমিক পূর্বাভাস টনপ্রতি ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১০ ডলার করা হয়েছে। তাপীয় কয়লার খনিতে স্বল্প বিনিয়োগের কারণে জ্বালানিটির উত্তোলন কমছে। ফলে চাহিদা কমতির দিকে থাকা সত্ত্বেও সীমিত সরবরাহে দাম বাড়বে। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়েও সমুদ্রপথে তাপীয় কয়লার বাণিজ্য কমে যাবে।
অন্যদিকে কয়লা উত্তোলন খরচ বাড়ায় অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানিটির দাম বাড়তে পারে। দেশটিতে ইউনিয়নবদ্ধ শ্রমিকদের মজুরি ব্যয় বৃদ্ধি এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। অস্ট্রেলিয়ায় আগামী বছর কয়লার দাম টনপ্রতি ১০০ ডলারে উঠতে পারে বলে সংশোধিত পূর্বাভাসে জানিয়েছে ফিচ। আগে তা প্রতি টন ৯৫ ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।
এদিকে চীনে স্টেইনলেস ইস্পাত উৎপাদন কমে যাওয়ায় নিকেলের চাহিদার ওপর নিম্নমুখী প্রভাব পড়েছে। এ কারণে ২০২৪ সালে ধাতুটির মূল্য পূর্বাভাস কমিয়েছে ফিচ রেটিংস। প্রথম শ্রেণীর নিকেল উত্তোলন বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে বাজারে নিকেল উদ্বৃত্ত। এ কারণে ২০২৪ সালে ধাতুটির দাম কমবে বলে মনে করে ফিচ।










