দেশে সম্প্রতি প্রচুর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা সমৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্যও প্রকট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল দুই দিনব্যাপী দ্বাদশ জাকাত ফেয়ার ২০২৪-এর সমাপনী দিনে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তারা এ কথা বলেন। 

শনিবার রাজধানীর গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডে আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ‘মেকিং আ ডিফারেন্স উইথ জাকাত’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এ মেলা শুরু হয়। মেলার আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)। মেলার মিডিয়া পার্টনার ছিল বণিক বার্তা। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সামাজিক সুরক্ষা খাত নামে সরকারের একটি প্রকল্প চালু আছে। সেটির ফল খুব টেকসই, এখনো সেটি কেউ বলেনি। বেসরকারি খাত থেকে বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য আগ্রহ খুব বেশি দেখা যায় না। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষ কিন্তু এখনো যাকাত সঠিকভাবে দিতে চায় এবং দেয়ও। কিন্তু এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে না পারলে, এখন যেভাবে দেয়া হচ্ছে, সেটি অনেকটা ভিক্ষা হয়ে যায়। ফলে এর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রয়োজন। এটি করা গেলে আমাদের দেশের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব হবে। আমাদের দেশে এখন যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু আছে, তাতে মজুদদারি ও ব্যাংক লুটপাট—এসব চলবে। হয়তো খুব শিগগিরই এটির অবসানও হবে বলে আমি আশাবাদী।’

আলোচনায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক বলেন, ‘আমাদের এখন কোনো কাজের বা জ্ঞানের গভীরতা নেই। অন্তত গত ৩০০ বছর ধরেই এমন পরিস্থিতি চলছে। বড় কোনো গবেষণাধর্মী কাজ নেই, বই নেই। সমাজে কীভাবে বৈষম্য সৃষ্টি হয়, সেটি নিয়ে গভীর কোনো পর্যবেক্ষণ বা গবেষণামূলক বই নেই। এখন সমস্যা যথাযথ বিশ্লেষণ করার আগেই একটা সমাধান দিয়ে দেয়া হচ্ছে। বর্তমান সময়ে যেভাবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ হচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বৈষম্য শুধুই একটি সমস্যা নয়, এটি একটি প্রধান সমস্যা। 

সমাপনী দিনে খতিব ও ইমামদের জন্য ‘মানবকল্যাণে জাকাত, উশর ও ওয়াকফের গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনার এবং ‘‌বৈষম্য হ্রাসে ইসলামী সামাজিক অর্থায়নের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।