চলতি সপ্তাহে তৃতীয় প্রান্তিকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপাত্ত প্রকাশের কথা ছিল চীনের। কিন্তু সম্প্রতি দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, আজ মঙ্গলবার জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ অন্যান্য উপাত্ত প্রকাশ হচ্ছে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তাহব্যাপী কংগ্রেস উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপাত্ত প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে বেইজিং।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর তৃতীয় প্রান্তিকেও সংকোচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের জন্য নেতিবাচক দেখা দিতে পারে এ আশঙ্কায় জুলাই-সেপ্টেম্বরের উপাত্ত প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে চীন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় উপাত্ত প্রকাশ করার কথা ছিল জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস)।
টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এনবিএসের এক কর্মকর্তা জানান, কাজে সমন্বয়ের অংশ হিসেবে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে এ নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।
রয়টার্সের এক জরিপে পূর্বাভাস দেয়া হয়, তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সরকারের নেয়া বিভিন্ন সহায়ক কর্মসূচিতে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
হংকংভিত্তিক একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ব্রুস প্যাং বলেন, অর্থনৈতিক উপাত্ত প্রকাশে বিলম্বের পেছনে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহতের ঘটনা নেই। বরং দলের কংগ্রেসে কী কী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে জনগণের দৃষ্টি যাতে সেখানে নিবদ্ধ থাকে সে উদ্দেশ্যে উপাত্ত প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের বাণিজ্য উপাত্ত প্রকাশে পিছু হটেছে দেশটির শুল্ক বিভাগ। গত শুক্রবার প্রকাশ করার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা করেনি জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে চীনের রফতানি কমেছে। বৈশ্বিক চাহিদায় শ্লথগতিতে রফতানি হ্রাসের পাশাপাশি আমদানিও ছিল মোটামুটি।
গতকাল এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
সপ্তাহব্যাপী কংগ্রেস শেষে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তৃতীয় মেয়াদের মতো দলে ও সরকারে নেতৃত্বের আসনে আসীন হবেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এর আগের কংগ্রেসে তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি উপাত্ত প্রকাশ করেছিল চীন সরকার।










