গত মাসে সৌদি আরবের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বেড়ে দুই বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম টেনে ধরতে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রফতানি বাড়িয়েছে দেশটি। খবর সৌদি গেজেট।

পণ্যবাহী জাহাজের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, গত মাসে সৌদি আরব সমুদ্রপথে দৈনিক প্রায় ৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে, যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। জুনে দৈনিক রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৬ লাখ ব্যারেল।

সৌদি আরবের জ্বালানি তেলের প্রধান রফতানি গন্তব্য চীন। গত মাসে দেশটির রফতানি বেড়ে দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো ভারতে রফতানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়েছে।

জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ও এর মিত্র জোট ওপেক প্লাস আরো বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াতে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে আছে। উদ্দেশ্য পণ্যটির দাম কমিয়ে আনা। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে অবস্থান করছে। এটি মূল্যস্ফীতি বাড়াতে সহায়তা করছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক বছর ধরে প্রতি মাসেই নির্ধারিত মাত্রায় জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস। যদিও প্রতি মাসেই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে জোটটি ব্যর্থ হচ্ছে। জোটের শীর্ষস্থানীয় সদস্য সৌদি আরব উত্তোলন বাড়াতে সক্ষম হলেও অনেক দেশ বেঁধে দেয়া কোটা অনুযায়ী উত্তোলন বাড়াতে পারছে। বিনিয়োগ স্বল্পতা, অপ্রতুল সক্ষমতাসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে উত্তোলন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ওপেক প্লাসের জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটি চলতি বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত কমার পূর্বাভাস দিয়েছে। পূর্বাভাসে দৈনিক উদ্বৃত্তের পরিমাণ দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল করে কমানো হয়েছে। মোট উদ্বৃত্ত দাঁড়াবে দৈনিক আট লাখ ব্যারেল।

জুনে জ্বালানি তেল উত্তোলনে ব্যাপক ঘাটতির মুখে পড়ে ওপেক প্লাস। প্রকৃত উত্তোলন ও লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ব্যবধান দাঁড়ায় দৈনিক ২৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে।

বিশ্ববাজারে সংকট মোকাবেলায় প্রতি মাসে নির্দিষ্ট মাত্রায় উত্তোলন বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ওপেক প্লাস। কিন্তু যতই উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, ততই জোটটির সদস্য দেশগুলো বেঁধে দেয়া উত্তোলন কোটা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। এর মূল কারণ সরবরাহ খাতে বিনিয়োগ ও সক্ষমতার অপ্রতুলতা।

আরগাসের সমীক্ষা অনুযায়ী, জুনে ওপেক প্লাস প্রতিদিন ২৫ লাখ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে, যা জোটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম।