রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে ইস্পাতের রফতানি বাজার শিগগিরই ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের অনেক ইস্পাত উৎপাদন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। কিছু কারখানা দখলে নিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী। আর কিছু নিষ্ক্রিয় পড়ে আছে। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার রফতানিতেও। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বলছে, আগামী দিনগুলোয় অঞ্চলটির রফতানি বাজারে আধিপত্য করবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক দেশটি। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বিদায়ী বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত ৬১ লাখ ৬০ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে ইউক্রেন। ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ৬৯ শতাংশ কমেছে।
গত বছর দেশটির মেটিনভেস্ট মালিকানাধীন দুটি সমন্বিত ইস্পাত কারখানা রুশ হামলায় বিধ্বস্ত হয়। এর প্রভাবে দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদন ইতিহাসের সর্বনিম্নে নামবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বছর আকরিক লোহা, পিগ আয়রন ও পরিশোধিত কিছু ইস্পাত পণ্য স্থলপথে ইউরোপের বাজারে রফতানি করতে পারে ইউক্রেন। গত বছরের ১১ মাসে দেশটির পিগ আয়রন রফতানি ১২ লাখ ৩০ হাজার টন কমেছে। চলতি বছর রফতানি আরো কমার আশঙ্কা রয়েছে। ইস্পাত রফতানিতে কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বাজার তুরস্ক। সেখানেও রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার ইস্পাত রফতানিতেও। বাজার হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে নিম্নমুখী চাহিদার কারণে উৎপাদক কমিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। ওয়ার্ল্ড স্টিলের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ১১ মাসে দেশটি ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন ৭ শতাংশ কমেছে।
তবে রাশিয়ার রফতানিকারকরা এখনো কৃষ্ণ সাগরীয় স্পট মার্কেটে নিজেদের সক্রিয় অবস্থান ধরে রেখেছেন। তারা এশিয়ায় রফতানি বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তুরস্কের বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রাখার নীতি নিয়ে এগোচ্ছেন। কারণ দেশটির বাজারে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রত্যক্ষ প্রভাব নেই। জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত তুরস্কে ইউক্রেনের পিগ আয়রন রফতানি ২ লাখ ৯১ হাজার টন কমলেও রাশিয়ার ২ লাখ ৬৩ হাজার টন বেড়েছে। তবে আধা পরিশোধিত ইস্পাত পণ্যের ক্ষেত্রে তুরস্কে রাশিয়ার রফতানি এক বছরের ব্যবধানে ১০ শতাংশ কমেছে।










