চীনের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ ২০৬০ সালের মধ্যে ১৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ইউয়ান অতিক্রম করবে। এর পেছনে ভূমিকা রাখবে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, খাতের সম্ভাবনা ও রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি। দেশটির বিদ্যুৎ করপোরেশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। দাবি করা হয়, ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। চীনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে চলতি শতাব্দীতেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা দশমিক ২ থেকে দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি বৈশ্বিকভাবে নিঃসৃত কার্বন ডাই-অক্সাইডের ৩০ শতাংশের পেছনে দায়ী।

চীনের বিদ্যুৎ করপোরেশন জানিয়েছে, জ্বালানি খাতের এ পরিবর্তন আনতে বিদ্যুৎ খাতকে পরিবেশ অনুকূল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় দেশটি। চায়না ইলেকট্রিক পাওয়ার কনস্ট্রাকশন এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যানুসারে, ২০২২ সালে প্রধান বৈদ্যুতিক ফার্মগুলো বিনিয়োগ করেছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।

চীনের সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০২২ সালে বিনিয়োগ ২৩২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২৮ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। চীনের লক্ষ্যমাত্রা হলো ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ বিদ্যুতের উৎস নবায়নযোগ্য খাতে সরিয়ে নেয়া। ২০২২ সালে দেশটির বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য খাতের অবদান ছিল ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এর আগে ব্যবসায়িক পরামর্শ প্রতিষ্ঠান ইওয়াই বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ৪০ নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজারের তালিকা প্রকাশ করে। তাতে চীনের অবস্থান ছিল তৃতীয়। তার আগে ছিল কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।

গত জুলাইয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বিদ্যুৎ খাতে সংস্কার আনার ঘোষণা দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত টানাপড়েন রয়ে গেছে। আন্তঃপ্রাদেশিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে গতি।