করোনাকালে তুরস্কের ইস্পাত উৎপাদন খাতে মন্দার দেখা মিলেছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) দেশটির কারখানগুলোয় শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আড়াই শতাংশ কমে দুই কোটি টনের নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে তুরস্ক থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ইস্পাত রফতানি প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। টার্কিশ স্টিল প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (টিসিইউডি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর মেটাল বুলেটিন ও সিনহুয়া।

ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় তুরস্কের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। টিসিইউডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে তুরস্কে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৯৪ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত জানুয়ারি-জুলাই সময়ে দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন কমেছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।

করোনা মহামারীর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে তুরস্ক থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ইস্পাত রফতানি ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে টিসিইউডি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় তুরস্ক থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৮ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত রফতানি হয়েছে। শিল্প ধাতুটির রফতানি বাবদ গত জানুয়ারি-জুলাই সময়ে তুরস্কের রফতানিকারকরা মোট ৮১০ কোটি ডলার আয় করেছেন।

তবে মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বশেষ জুলাইয়ে তুরস্কে ইস্পাত উৎপাদন বাড়লেও দেশটি থেকে শিল্প ধাতুটির রফতানি কমে এসেছে। টিসিইউডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাইয়ে তুরস্কের কারখানাগুলোয় সব মিলিয়ে ৩১ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

তবে জুলাইয়ে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে শিল্প ধাতুটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এ সময় তুরস্কের রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ১৯ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত রপতানি করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জুলাইয়ে অপরিশোধিত ইস্পাত রফতানি করে তুরস্কের রফতানিকারকদের মোট ১৩০ কোটি ডলার আয় হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে শিল্প ধাতুটির রফতানি বাবদ দেশটির আয় কমেছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।