দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে গতকাল মাত্র দুদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩-৪ টাকা। গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধির ফলে বিপাকে পড়েছেন পাইকার ও ভোক্তারা। তবে আমদানিকারকদের দাবি, ভারতে পেঁয়াজের দাম ও সরবরাহ কমায় দেশের বাজারেও দাম বাড়ছে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বন্দরে ভারতীয় ইন্দোর জাতের প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৩-৫৪ টাকায়। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে গতকাল দাম উঠেছে ৬০-৬১ টাকায়। এছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৬০-৬১ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬-৬৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা মোস্তফা হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার থেকে সাতদিন বন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকবে। এ কারণে মোকামগুলো সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বেশি করে পেঁয়াজ কিনে রাখছে। এ কারণে বন্দরে এখন পেঁয়াজের চাহিদা বেড়ে গেছে। আর এ সুযোগে আমদানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’
পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। আর পূজার কারণে সামনে এক সপ্তাহ সব স্থল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। এ কারণে কৃষক আগাম খেত থেকে পেঁয়াজ উঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। এতে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ পাওয়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণও কিছুটা কমেছে।’
তিনি জানান, ভারতে পার্কিংয়ে আটকে পড়া পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচসহ অন্য কাঁচা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো খালাস করার জন্য গতকাল আধাবেলা বন্দর চালু ছিল। আজ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকবে। আমদানি বন্ধের সময় দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মোকামগুলো বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ করে রাখতে চাইছে। ভারত থেকে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং দেশের পাইকারি বাজারে চাহিদা বাড়ায় পণ্যটির দাম বাড়ছে। পূজার ছুটি শেষে আবারো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘ পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ ওঠানামা করছে। গত শনিবার বন্দর দিয়ে ৩৯টি ট্রাকে ১ হাজার ১৪৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। পরের দিন রোববার ৪৫টি ট্রাকে ১ হাজার ৩৪৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। সোমবার ৩৯টি ট্রাকে ১ হাজার ১৬০ টন, মঙ্গলবার ৫০টি ট্রাকে ১ হাজার ৪৭৪, বুধবার ৪৩টি ট্রাকে ১ হাজার ২৬৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে।’










