কানাডা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম রফতানিকারক। বর্তমানে দেশটিতে গমের ভালো ফলনের জন্য আবহাওয়ায় প্রয়োজন পর্যাপ্ত আর্দ্রতা। কিন্তু ঘটছে এর ঠিক উল্টো। ভয়াবহ শুষ্ক আবহাওয়ায় শস্যটির উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কানাডার কৃষকদের মাঝে। এ পরিস্থিতিতে শস্যটির বৈশ্বিক সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। খবর আরটি।
কানাডার তৃণভূমিগুলো বছরের শুরুতেই ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমোডিটি ওয়েদার গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডেভিড স্ট্রেইট। কানাডার কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, আলবার্টা, সাসকাচুয়ান, মানিটোবাসহ দেশটির প্রধান প্রধান গম আবাদি অঞ্চলে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬০ শতাংশেরও কম। বৃষ্টির অভাবে কৃষি অঞ্চলগুলো শুকিয়ে গম উৎপাদনের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
এগ্রিকালচারাল প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব সাসকাচুয়ানের প্রেসিডেন্ট বিল প্রিবিলক্সি জানান, গমের বীজকে মাটির সঠিক গভীরতায় বপন করতে পারা একটি শিল্প। মাটির যে অংশে আর্দ্রতা আছে, সেখানে বপন করলে তবেই গাছ আর্দ্রতা পায়।
কানাডা বিশ্বের শীর্ষ গম ও ক্যানোলা উৎপাদক। গত বছর দেশটি সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টন গম উৎপাদন করে, যা তৃতীয় রেকর্ড সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ক্যানোলা উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টনে। দেশটির পরিসংখ্যান বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে যখন অনুকূল আবহাওয়া ছিল এ উৎপাদনের তথ্য তখনকার। তবে বর্তমানে খরা পরিস্থিতি দেশটির উৎপাদন ভয়াবহভাবে ব্যাহত করছে।
এদিকে উৎপাদন কমে গেলে পশ্চিমারা যতটা আশঙ্কা করছেন ঠিক ততটা নেতিবাচক প্রভাব গমের বাজারে পড়বে না বলে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন। ২০২২ সালে কানাডায় গমের বাম্পার ফলন হয়। ওই সময় প্রায় ১৫ কোটি টন খাদ্যশস্য উত্তোলন করা হয়, যা ২০২১ সালের অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ১০ কোটি টনই ছিল গম।
এক বছর আগে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে, তখন থেকেই বিশ্ববাজারে গমের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। গমের বৈশ্বিক সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশই আসে দেশ দুটি থেকে। গত বছরের মাঝামাঝিতে যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে গমের সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। জুলাইয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হলে রফতানি আবারো চালু হয়। কিন্তু এখনো সেটি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে পারেনি। তার ওপর বৈরী আবহাওয়া শস্যটির সরবরাহ ধারাকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরও সম্প্রতি রাশিয়া নিজেদের গম উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। উৎপাদনের সম্ভাব্য পরিমাণ ধরা হয়েছে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন।
অন্যদিকে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ৭৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার টন গম উৎপাদন হতে পারে। মৌসুমের সমাপনী মজুদ ২১ লাখ টনেরও বেশি কমার আশঙ্কা করছে ইউএসডিএ। মজুদের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৬ কোটি ৭২ লাখ টনে।










