চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করছে এশিয়ার ফাস্টফুড জায়ান্ট জলিবি ফুড করপোরেশন (জেএফসি)। এতে আগামী পাঁচ বছর সংস্থাটির বিক্রি দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফিলিপাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির জনপ্রিয় দুটি খাবারের নাম চিকেনজয় ও জলি স্প্যাগেটি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী বলেন, মহামারী-পরবর্তী ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্য হিসেবেই এমন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

প্রধান নির্বাহী আর্নেস্টো তানমানতিয়ং এক সাক্ষাত্কারে বলেন, এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত রেস্তোরাঁ চেইনটি ২০২৭ সালের মধ্যে এর নেটওয়ার্কে ১০ হাজার শাখা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। জুন পর্যন্ত সংখ্যাটি ছিল ৬ হাজার ৩০০-এর কাছাকাছি। আমাদের আকাঙ্ক্ষা, জেএফসিকে সত্যিকারের একটি বৈশ্বিক কোম্পানিতে পরিণত করা।

তিনি আশাবাদী, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বিক্রয় থেকে অর্ধেক রাজস্ব উঠিয়ে নিতে সক্ষম হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৬০ শতাংশ রাজস্বই আসে ফিলিপাইন থেকে। সেখানে জলিবির তিন হাজারের বেশি শাখা রয়েছে।

কভিড মহামারী-পরবর্তী পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে জলিবির বিক্রি ও লাভ বৃদ্ধির ফলে মূলত উচ্চাকাঙ্ক্ষী এ আশাবাদ ব্যক্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি। সরাসরি মালিকানাধীন ও ফ্র্যাঞ্চাইজি স্টোর উভয় ক্ষেত্রে ২০২২ সালের প্রথমার্ধে ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মুনাফা হয়েছে ১৩৩ দশমিক ১ বিলিয়ন পেসো (২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার)। নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৫১ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন পেসো। যদিও প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের নির্দিষ্ট রাজস্ব ও লাভের আগাম পূর্বাভাস প্রকাশ করে না।

তানমানতিয়ং বলেন, আমরা মনে করি আগামী পাঁচ বছর দুই অংকের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে পারব। যার অর্থ হচ্ছে আমাদের ব্যবসা দ্বিগুণ করা। এছাড়া ম্যাকডোনাল্ড’স ও স্টারবাকসের দলে যোগ দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পাঁচটি ফাস্ট ফুড কোম্পানির একটি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি।

৩০টিরও বেশি দেশে শাখা রয়েছে জলিবির। মহামারীর আগে তারা ১০টি বৃহত্তম ফাস্ট ফুড ব্র্যান্ডের তালিকায় ছিল। তবে ফিলিপাইনে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে এটি এক পর্যায়ে ১৮তম স্থানে চলে যায়।

ফিলিপাইনের বার্গার কিং ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ জলিবির ১৮টি ব্র্যান্ড রয়েছে। এছাড়া জাপানের ইয়োশিনোয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে পান্ডা এক্সপ্রেসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে তারা। সংস্থাটি এবার উত্তর আমেরিকা ও চীনের দিকে মনোনিবেশ করছে। তানমানতিয়ং বলেন, কৌশলগত অধিগ্রহণ কোম্পানির বৈশ্বিক বৃদ্ধি কৌশলের অংশ। অনেক কোম্পানি আছে যারা জলিবির সঙ্গে কাজ করতে চায়, তবে আমরা তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তি করিনি। আমাদের অধিগ্রহণের জন্য চারটি প্রধান আগ্রহের জায়গা হলো চিকেন, বার্গার, চাইনিজ খাবার ও পানীয়।

এরই মধ্যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি টিম হো ওয়ান এবং তাইওয়ানের জনপ্রিয় চায়ের ব্র্যান্ড মিল্কশাকে অধিগ্রহণ করেছে জলিবি। টিম হো ওয়ানে প্রায় ৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং চীনে ১০০টি স্টোর খোলার পরিকল্পনা করছে।

১৯৭৫ সালে একটি আইসক্রিম শপ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে জলিবি। বর্তমান চেয়ারম্যান তানমানতিয়ংয়ের বড় ভাই টনি ট্যান ক্যাকটিং এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।