গত বছর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার (মেনা অঞ্চল) ছোট দেশগুলোর স্টার্টআপ তহবিলে বিনিয়োগ এসেছে ৪৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব ও মিসর বাদে অন্যান্য দেশের হাতে এ অর্থ এসেছে। স্টার্টআপ ডাটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাগনিটের সর্বশেষ গবেষণায় বলা হয়, বিভিন্ন মেগা চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে স্টার্টআপ তহবিলের পরিমাণ বেড়েছে এ অঞ্চলে। খবর দ্য ন্যাশনাল। 

ম্যাগনিটের গবেষণায় বলা হয়, মেনা অঞ্চলের ছোট দেশগুলোর স্টার্টআপে ২০২১ সালে বিনিয়োগ এসেছে ৩৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ২০২২ সালে যা ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।

স্টার্টআপ ডাটা প্লাটফর্মটি বলছে, অর্থপ্রবাহের এ প্রবণতা মেনার তুলনামূলক ছোট এ বাজারগুলোর গতি সম্প্রসারণের দিকে ইঙ্গিত করে। যার মধ্যে ১০ কোটি ডলার বা তার চেয়ে বড় অংকের বিনিয়োগ বেড়েছে। ২০২২ সালে মেগা বিনিয়োগ এসেছে ২৬ কোটি ডলার, যা মোট বিনিয়োগের প্রায় অর্ধেক। তবে বিনিয়োগ বৃদ্ধির হারে ২০২১ সাল এগিয়ে ছিল। ২০২০ সালের ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিপরীতে ২০২১ সালে স্টার্টআপে বিনিয়োগ ১৩৬ শতাংশ বেড়েছিল। কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কায় স্পষ্টত ২০২০ সালে স্টার্টআপে বিনিয়োগ অনেক কম ছিল। ম্যাগনিটের গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মেনা অঞ্চলের ছোট অর্থনীতিগুলোর স্টার্টআপে বিনিয়োগ এসেছে যথাক্রমে ১৫ কোটি ৫০ লাখ ও ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। 

২০২২ সালে চুক্তির সংখ্যা ২০২১ সালের ১৯৫টি থেকে ৬ শতাংশ কমে ১৮৩টি হয়। যদিও ২০১৯ সালে চুক্তির সংখ্যা ছিল ২৩৬ এবং ২০২০ সালে ২০৬টি। ম্যাগনিটের প্রতিবেদন অনুসারে, মেনা অঞ্চল থেকে যদি ১০ কোটি ডলার প্লাস রাউন্ডের সীমা তুলে নেয়া হয়, তাহলে অঞ্চলটিতে অর্থায়নের পরিমাণ আরো বাড়বে।

আলজেরিয়া গত বছর সর্বোচ্চ ১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থায়ন পেয়েছে, যা বছরওয়ারি পাঁচ গুণ বেড়েছে। এদিকে বাহরাইন ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার স্টার্টআপ বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। জর্ডান ও তিউনিসিয়া উভয়ের ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার করে। এদিকে কাতার ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং লেবানন আড়াই কোটি ডলার আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মরক্কো, তিউনিসিয়া, কুয়েত ও কাতারের মতো বাজারগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া ২০২২ সালে মেনার শীর্ষ পাঁচটি লেনদেনকৃত বাজারের মধ্যে ছিল তিউনিসিয়া ও কাতার। তবে মেনা অঞ্চলে সম্মিলিতভাবে স্টার্টআপের সিংহভাগ বাজার দখল করে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও মিসর। ২০২২ সালে বিনিয়োগের প্রায় ৭৪ শতাংশই গেছে এ তিন দেশে। যথাক্রমে তারা ১১৯ কোটি, ৯৮ কোটি ৭০ লাখ, ৫১ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের তহবিল আকর্ষণ করেছে বলে ম্যাগনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্টার্টআপের ভূমিকা ক্রমাগত বাড়ছে। কারণ কভিড-১৯-পরবর্তী ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে গ্রাহকদের সুবিধাজনক পরিষেবাগুলো তারা অন্তর্ভুক্ত করেছে। এদিকে মেনা অঞ্চলে রয়েছে প্রযুক্তিপ্রেমীদের একটি বিশাল গোষ্ঠী। ফলে অঞ্চলটি বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বাজারে পরিণত হয়েছে।

এর আগে ম্যাগনিট তাদের প্রতিবেদনে বলে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, পাকিস্তান এবং তুরস্কজুড়ে (এমইএপিটি) স্টার্টআপগুলো গত বছর ১ হাজার ৪৭৩টি চুক্তির মাধ্যমে ৭২০ কোটি ডলার সংগ্রহ করে। এদিকে গত বছর শুধু মেনা স্টার্টআপগুলোতেই ৮ দশমিক ৩ শতাংশের বার্ষিক বৃদ্ধিসহ বিনিয়োগ এসেছে ৩০০ কোটি ডলার।