ভারতে তুলা উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়েছে কটন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (সিএআই)। ২০২১-২২ মৌসুমে পণ্যটির উৎপাদন ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমতে পারে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় তুলা আবাদে চাষীদের মাঝে অনীহা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে দাম বেশি হওয়ায় কম দামে আমদানীকৃত তুলাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

গত বছরের অক্টোবরে ২০২১-২২ তুলা মৌসুম শুরু হয়। এ মৌসুমের জন্য সিএআই তুলা উৎপাদন পূর্বাভাস আট লাখ বেল কমিয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার বেল (প্রতি বেলে ১৭০ কেজি)। এর আগে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ১৩ হাজার বেল তুলা উৎপাদনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

সিএআইর প্রাক্কলন অনুযায়ী, মৌসুমের শুরু থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তুলা সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার বেল। এছাড়া অক্টোবর থেকে শুরু করে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত তুলার ব্যবহার ১ কোটি ৭৫ লাখ বেলে উন্নীত হয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত রফতানির উদ্দেশ্যে ৩৫ লাখ বেল তুলা চালান করা হয়েছে।

এদিকে মার্চের শেষ নাগাদ তুলার মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৬৮ হাজার বেলে। এর মধ্যে ৭৫ লাখ বেল টেক্সটাইল ও বাকি ৫৮ লাখ ৬৮ হাজার বেল সিসিআই, মহারাষ্ট্র ফেডারেশন, এমএনসিএস, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মজুদ রয়েছে। ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে তুলা বিক্রি হলেও এখনো সরবরাহ করা হয়নি।

সিএআইর ক্রপ কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, তুলার ২০২১-২২ মৌসুম শেষে পণ্যটির মোট সরবরাহ ৪ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার বেলে দাঁড়াবে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় আট লাখ বেল কম। এতে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ১৩ হাজার বেল সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। তুলা মৌসুমের শুরুতে ৭৫ লাখ বেল মজুদকেও মোট সরবরাহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চলতি মৌসুমে ভারতের তুলা রফতানি বাড়ারও পূর্বাভাস মিলেছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকায় আমদানিকারক দেশগুলোর পোশাক খাতে তুলার চাহিদা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এতে এসব দেশ ভারত থেকে তুলা ক্রয়ের পরিমাণ বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইউএসডিএর ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের (এফএএস) মুম্বাই অফিসের দেয়া এক পূর্বাভাসে দেখা গিয়েছে, ২০২১-২২ মৌসুমে ভারত ৫৯ লাখ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড) তুলা রফতানি করতে সক্ষম হবে। ইউএসডিএর দাপ্তরিক পূর্বাভাসের তুলনায় এটি এক লাখ বেল বেশি।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শেষ হবে। এফএএসের মুম্বাই অফিসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, শুধু গত বছরের ডিসেম্বরেই ভারতের তুলা রফতানি আগের মাসের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেড়ে যায়। বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, চীন ও ইন্দোনেশিয়া ছিল দেশটির প্রধান রফতানি গন্তব্য। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতের শীর্ষ তুলা ক্রেতার তকমা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের তুলা রফতানি বাজারের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ শতাংশে। একইভাবে তুলা থেকে তৈরি সুতা ও তুলাজাত পণ্য রফতানিও ক্রমেই বাড়ছে।

দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়, চলতি বছর জানুয়ারিতে মূল্যমানের দিক থেকে ভারতের তুলাজাত সুতা, ফ্যাব্রিকস, তৈরি পণ্য ও হ্যান্ডলুম পণ্য রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। যদিও ডিসেম্বরের তুলনায় এসব পণ্যের সম্মিলিত রফতানি ৩৩ শতাংশ কমেছে।

এদিকে জানুয়ারিতে সব ধরনের তৈরি পোশাক রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। ডিসেম্বরের তুলনায় বেড়েছে ১২ শতাংশ।