বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, শিল্পবর্জ্য কমানো, বিষাক্ত রাসায়নিকের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং কারখানায় কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রডাক্ট পাসপোর্ট (ডিপিপি) ও এআইভিত্তিক সমাধানের ব্যবহার পোশাক শিল্পকে আরো পরিবেশবান্ধব, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে পারে। শুক্রবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) আয়োজিত ‘ডেটা ডেভেলপ প্রাইজ (ডিডিপি) ২০২৬ বিডি কেস কম্পিটিশন’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘এআই সক্ষম এনডিপিপি-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পুনর্চিন্তা: কম বর্জ্য, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ শিল্পপরিবেশ গড়ে তোলা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের মাধ্যমে পোশাক শিল্পের পরিবেশগত ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হংকংভিত্তিক ডেটা ডেভেলপ কনসাল্টিং লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এশিয়া সার্কুলার ইকোনমি অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক পরিচালক ড. হেনরি সু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন একাডেমি অব গার্মেন্টস টেকনোলজি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিডিয়া সু, এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।
ড. হেনরি সু বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্প পরিবেশগত সমস্যা ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান প্রয়োজন। এআই সক্ষম উদ্যোগটি বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবস্থাপনা, বায়ুর মান উন্নয়ন এবং কারখানার নিরাপত্তাসহ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। উদীয়মান প্রযুক্তি ও উন্নত তথ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবহার পোশাক শিল্পকে আরো পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও কম বর্জ্যনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।’
বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের উন্নয়নে প্রযুক্তি ও টেকসই শিল্পচর্চার গুরুত্ব বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শিল্পবর্জ্য কমানো, উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।’
এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, ‘শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে একাডেমিক গবেষণার সংযোগ স্থাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার্থী, গবেষক ও শিল্প খাতের নেতাদের একত্র করার মাধ্যমে দায়িত্বশীল উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করা সম্ভব। এ ধরনের প্রতিযোগিতা টেকসই শিল্পচর্চার প্রসারের পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য স্নাতকদের প্রস্তুত করতেও সহায়তা করে।’










