গত মাসে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ বেড়েছে। গত ছয় মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো মজুদ বৃদ্ধির ঘটনা ঘটল। ওই মাসে দেশটিতে পাম অয়েল উৎপাদন বেড়েছে। ব্যাপক চাহিদা থাকায় আমদানিও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু এ সময় পণ্যটির রফতানি কমেছে। এসব বিষয়ই মজুদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে পাম অয়েলের মজুদ বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টনে। চলতি বছরের জানুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ মজুদ।
পাম অয়েল উৎপাদনে মালয়েশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। গত মাসে দেশটিতে পাম অয়েল উৎপাদন ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টনে, যা পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে গত মাসে দেশটি ১২ লাখ টন পাম অয়েল রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে। রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু পণ্যটির আমদানি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। ওই মাসে মালয়েশিয়া ৯৫ হাজার টন পাম অয়েল আমদানি করে।
পণ্যবাহী কার্গোর তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, অব্যাহতভাবে দাম বাড়তে থাকায় গত মাসে চীন, ভারত ও ইউরোপের দেশগুলো মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এ কারণে পণ্যটির রফতানি ১৩ দশমিক ৬ থেকে ১৬ শতাংশ কমেছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ফোর বাংয়ের ব্যবসায়ী রনি লাও বলেন, ইন্দোনেশিয়া বর্তমানে যে নীতি অনুসরণ করছে, তাতে চলতি মাসে পাম অয়েলের বাজার ভয়াবহ সংকটাপন্ন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারে।
তথ্য বলছে, গত মাসে ইন্দোনেশিয়া সাময়িকভাবে পাম অয়েল রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। উদ্দেশ্য দেশীয় উৎপাদন শিল্পের উন্নয়ন এবং মূলবৃদ্ধিতে লাগাম টেনে ধরা। এ কারণে তখন মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের রফতানি চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক স্বাধীন ব্রোকার মার্সেলো কালট্রেরা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার এ নীতির কারণে পাম অয়েলের বৈদেশিক চাহিদা মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের দিকে মোড় নেয়।
তিনি আরো বলেন, চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রফতানি ১৩ লাখ টনে কমে ১৫ লাখ টনে নামতে পারে। ফলে দেশটিতে পণ্যটির মজুদ ব্যাপক বাড়বে।
ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা জানান, ২৮ এপ্রিল থেকে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রফতানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এরপর বাজার আদর্শ পাম অয়েলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে।
এ নিষেধাজ্ঞা মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। কারণ বায়োডিজেল প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে দেশটি রফতানি শুল্কের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।










