চলতি বছরে ভারতের রুপা আমদানি আট হাজার টন ছাড়িয়েছে। গহনার চাহিদা বৃদ্ধিতে ভারতের রুপা আমদানি রেকর্ড সর্বোচ্চে।

সিলভার ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে ৫ হাজার ৬৪১ টন রুপার গহনা বিক্রি হয়েছিল। বিয়েশাদি ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ ধাতব পণ্যটির চাহিদা বেড়েছিল।

গত বছর ভারতের রুপার বার ও মুদ্রা তৈরি তিন গুণ বেড়েছিল। ২০২০ সালে বড় আকারের শ্লথগতির পর ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধে চাঙ্গা ছিল রুপার বাজার। চলতি বছরে এ চাঙ্গাভাব বহাল রয়েছে। এরই মধ্যে আট হাজার টন রুপা আমদানি করেছে ভারত।

মতিলাল ওসওয়াল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমওএফএস) কমোডিটি রিসার্চের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নাভনীত দামানি জানান, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণকে ছাড়িয়ে যেতে পারে রুপা। মাসিক আমদানি উপাত্তের ভিত্তিতে এ ধরনের পূর্বাভাস দেন তিনি।

কামা জুয়েলারির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কলিন শাহ বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপাত্তে দেখা গেছে, জানুয়ারি-জুলাইয়ের মধ্যেই ৫ হাজার ১০০ টন রুপা আমদানি হয়। গত বছরের একই সময়ে যেখানে আমদানি হয়েছে ২ হাজার ৭৭৩ টন। ২০২০ ও ২০১৯ সালের একই সময়সীমায় আমদানি হয়েছিল যথাক্রমে ২ হাজার ২১৮ ও ৫ হাজার ৯৬৯ টন।

কমোডিটি পার্টিসিপেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (সিপিএআই) প্রেসিডেন্ট নারিন্দার ওয়াধওয়া জানান, গত সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৭০০ টন রুপা আমদানি করেছে ভারত। জুলাই ও আগস্টে যেখানে আমদানি হয়েছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৮১২ ও ১ হাজার ১৪৯ টন।

চলতি বছরে ভারতে রুপার দাম কেজিপ্রতি রেকর্ড ৭৩ হাজার রুপি স্পর্শ করেছিল। গত সেপ্টেম্বরে তা কেজিপ্রতি ৫১ হাজার ৫০০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মূল্যবান ধাতুটির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬৩ হাজার ৬০০ রুপি।

বিশ্লেষক কলিন শাহ বলেন, ফ্যাশনসচেতন তরুণ প্রজন্ম দামি হীরা ও স্বর্ণের চেয়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী রুপার গহনা ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। চলতি বছরে রুপার দাম বৃদ্ধির পেছনে রেকর্ড বিয়েরও ভূমিকা রয়েছে বলে জানায় সিলভার ইনস্টিটিউট। ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে কাঠামোগত পরিবর্তনও রুপার চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। ভারতের মতো বাজারের ওপর ভর করে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে রুপা।

তবে সিপিএআই প্রেসিডেন্ট জানান, ২০২২ সালে রুপার গড় দাম থাকবে আউন্সপ্রতি ২১ ডলার ৩০ সেন্ট। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ২০২৩ সালে রুপার দাম থাকবে আউন্সপ্রতি ২১ ডলার। ২০২৪ সালেও মূল্যবান ধাতুটির দাম ২১ ডলারের আশপাশেই থাকবে।