চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ সময় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ করা হয়েছে ২৬৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।
বন্দর দিয়ে শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানির পরিমাণ কমায় রাজস্ব আহরণ কমেছে বলে দাবি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। আমদানির ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা আছে, সেগুলো নিরসন হলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলে মনে করছে তারা।
হিলি স্থল শুল্কস্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছর হিলি স্থলবন্দর থেকে ৬০৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ‘ব্যাংকগুলো ডলার সংকটের কারণে শুধু খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের এলসি দিচ্ছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগে প্রচুর পরিমাণে পাথর আমদানি হতো। কিন্তু এলসি না পাওয়ায় তা শূন্যের কোটায় নেমেছে। এছাড়া জিরাসহ অন্যান্য কিছু পণ্যের এলসির পরিমাণ কমায় আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে। এ কারণেই মূলত বন্দর থেকে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না।’
আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। অন্যান্য বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য অনায়াসে আমদানি হচ্ছে, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুল্কায়ন জটিলতার কারণে তা হচ্ছে না। বিশেষ করে মোটরসাইকেল পার্টস বেনাপোল বন্দরে যে মূল্যে শুল্কায়ন হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে হিলি স্থলবন্দরে শুল্কায়ন করা হয়। এছাড়া ফল আমদানির ক্ষেত্রে গাড়ির চাকা অনুযায়ী শুল্কায়ন হওয়ায় এ বন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ফল আমদানি বন্ধ। এসব জটিলতা নিরসন করা গেলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে।’
হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের উপকমিশনার বায়জিদ হোসেন বলেন, ‘বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণ কমার মূল কারণ শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি কমে যাওয়া। হিলি স্থলবন্দরে ৫৩ শতাংশ রাজস্বই আসে জিরা থেকে। কিন্তু এ বছরের প্রথম দুই মাসে মসলা পণ্যটির আমদানি ব্যাপক কমেছে। বন্দরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজস্ব আসে পাথর আমদানি থেকে। সেটির আমদানিও বর্তমানে কম। চাল আমদানি অব্যাহত থাকলেও শুল্ক প্রত্যাহার করায় রাজস্ব আসছে না।’









