অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। দেশটির প্রার্থিতায় সমর্থন দিয়ে সহায়তা করবে জোটের অন্যতম সদস্য দেশ ব্রাজিল। সম্প্রতি কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতায় অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ। খবর আরটি।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা এ পাঁচ দেশ নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোটে সম্প্রতি বড় ধরনের সম্প্রসারণ ঘটেছে। এতে নতুন করে সদস্যপদ পেয়েছে ইথিওপিয়া, ইরান, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। জোটটি আরো সম্প্রসারণ করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অক্টোবরের শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে বেশ কয়েকটি দেশ পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর বৈঠকের পর সম্প্রতি প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্রিকসে কলম্বিয়ার পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং কলম্বিয়ার প্রার্থিতাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এদিকে কলম্বিয়া ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশ পশ্চিমা বলয়ের বাইরের এ অর্থনৈতিক জোটে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিছু দেশ এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনও জমা দিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ভেনিজুয়েলা, থাইল্যান্ড, সেনেগাল, কিউবা, কাজাখস্তান, বেলারুশ, বাহরাইন ও পাকিস্তান।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা গত ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা দিয়েছিল, চলতি বছরের অক্টোবরে রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনে জোটের সদস্যপদ নিশ্চিত করতে চায়। ব্রিকস জোটকে ‘মানবতার ভবিষ্যৎ’ আখ্যা দিয়ে ওই সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, ‘এটি একটি নতুন বহুমুখী বিশ্বের উত্থান।’

রাশিয়ায় নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত জেফ মাকিতুকা গত ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিলেন, আগামী অক্টোবরে রাশিয়ার কাজান শহরে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রায় ২৫টি দেশ ব্রিকসের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আবেদন করবে বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সম্প্রতি ব্রিকসের সঙ্গে সম্পর্কিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) প্রধান দিলমা রুসেফ বলেন, ‘ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো চার বছরের মধ্যে তাদের নমিনাল গ্লোবাল জিডিপিতে জি-সেভেনকে ছাড়িয়ে যাবে।’

তার মতে, ২০২৮ সাল নাগাদ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উৎপাদনে জোটটির অংশ বেড়ে ৪০ শতাংশ হবে। একই সময়ে জি-সেভেন গ্রুপের উন্নত দেশগুলোর হিস্যা কমে দাঁড়াবে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশে।