ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, কর, সস্তা আমদানি ও স্বল্প মজুরিসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে ইউরোপের কৃষকরা। এ আন্দোলন শুরু হয় ফ্রান্সে, এরপর তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়ামসহ বেশ কয়েকটি দেশের কৃষকরা। সম্প্রতি প্রায় দেড় হাজার ট্রাক্টর নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন তারা। এতে ইউরোপের যোগাযোগ ব্যবস্থা এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মহাদেশটির সরকারপ্রধানদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। খবর ওইয়ন।
কৃষকদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর দাবির কাছে নতি স্বীকারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন জর্জিয়েভা। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শান্তিপূর্ণ অথচ ব্যাপক বিক্ষোভের চাপে নতি স্বীকার করলে সম্ভাব্য পরিণতি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে না বলে জানান তিনি।
ওয়াশিংটন অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন আইএমএফ প্রধান। কৃষকদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জের বিষয়ে ওয়াকিবহাল বলে জানান তিনি। এর প্রতি সহানুভূতি রয়েছে তার। তার পরও জনতুষ্টিতে সম্মত জানিয়ে দেশগুলোর অর্থনৈতিক শক্তির সঙ্গে আপস করার বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন তিনি। ব্রিফিংয়ে সরাসরি কৃষক বিক্ষোভকে উদ্ধৃত করে কথা বলেন জর্জিয়েভা।
তিনি বলেন, ‘আপনারা কৃষকদের প্রতিবাদ দেখেছেন। মানবিক দিক থেকে চিন্তা করলে আমরাও বুঝতে পারছি, তারা অনেক বেশি কষ্টে রয়েছেন। আর কৃষকরা যে কাজগুলো করেন, তা করা সহজ নয়।’
আইএমএফ প্রধান জানান, সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী রাখার জন্যই কৃষকদের দাবি অনুমোদন না করার ওপর গুরুত্ব দেন জর্জিয়েভা। তিনি মনে করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকার যদি চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এবং এ কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে পিছিয়ে আসে, তবে ভবিষ্যতে অনুশোচনা করতে হবে।
সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেইনের বৈঠকের সময় হাজার হাজার ইউরোপীয় কৃষক বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে ব্রাসেলসে জড়ো হন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, আসন্ন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে ইউরোপীয় নেতাদের কাছ থেকে ছাড় পাওয়াই এ বিক্ষোভের লক্ষ্য।
শীর্ষ সম্মেলনের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিলেন, ফ্রান্স সফলভাবে ইউক্রেনসহ খাদ্যশস্য ও পোলট্রি আমদানিতে ‘কঠোর নিয়মের’ পক্ষে সমর্থন করে।
ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন জর্জিয়েভা। এ সময় তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদানের সঙ্গে জড়িত চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন যে একে সমর্থন করা সহজ হলেও এটি প্রত্যাহার করলে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
ব্রিফিংয়ে সরকারি ঋণ, মার্কিন মুদ্রা নীতি ও আর্জেন্টিনা, মিসর ও পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়ে অবহিত করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, আগামী জুনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনে ইউরোপের চরম ডানপন্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উত্থানে ইউরোপে কর ও জীবনযাপনের ব্যয় আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কিছুদিন ধরে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ।










