পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসির গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাবিত একটি ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ওই ব্যাংকটির নাম হবে ‘‌আমার ডিজি ব্যাংক পিএলসি’। এ ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বিপরীতে তারা বিনিয়োগ করবে। এক মূল্য সংবেদশীল তথ্যে বিষয়টি জানিয়েছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানিটি।

তথ্যানুসারে, প্রস্তাবিত ‘‌আমার ডিজি ব্যাংক পিএলসি’ নামের ডিজিটাল ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ২৫০ কোটি টাকা আর পরিশোধিত মূলধন হবে ১২৫ কোটি টাকা। এখানে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস সাড়ে ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হবে, যা প্রস্তাবিত ব্যাংকটির মোট পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশ। অর্থাৎ কোম্পানিটি এ ব্যাংকের ১০ টাকা মূল্যের মোট ১ কোটি ২৫ লাখ শেয়ারের মালিকানায় থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নেবে কোম্পানিটি।

দেশের প্রচলিত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি আর্থিক সেবা দিতে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহীদের কাছ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় এখন পর্যন্ত আটটি ব্যাংক, একটি বীমা কোম্পানি, ওষুধ ও রসায়ন খাতের এক কোম্পানি এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের এ কোম্পানিটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। 

ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) লিমিটেডসহ মোট ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সমন্বয়ে একটি কনসোর্টিয়াম বা জোট গঠন হতে যাচ্ছে। এ জোটের মাধ্যমে তারা ‘‌ডিজি ১০ ব্যাংক পিএলসি’ নামের একটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনে বিনিয়োগ করবে। এ জোটের বাকি ছয় ব্যাংকের পর্ষদে এখনো এ বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়নি। এর বাইরে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের পর্ষদেও ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। তবে ব্যাংকটি এ ১০ ব্যাংকের জোটের মধ্যে আছে কিনা তা নিশ্চিত করেনি। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পর্ষদ ‘‌বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ নামে একটি ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন চাইবে। তবে ‘‌বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ নামের ব্যাংকটির অন্য উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার কারা হবে সে বিষয়টি জানানো হয়নি। 

অন্যদিকে বীমা কোম্পানি প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ‘‌প্রগতি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এসিআই লিমিটেড ‘‌কোরি ডিজিটাল পিএলসি’ নামের আলাদা দুটি ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানি দুটির সঙ্গে সমন্বিত জোটে কারা রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। আর ইউনিক হোটেলের আগ্রহের ‘আমার ডিজি ব্যাংক পিএলসি’ নামের ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত জোটে কারা রয়েছে, তাও জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহীদের আবেদনের প্রসেসিং ফি বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংকে ৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকগুলোকে জনসমক্ষে আসতে হবে। ডিজিটাল ব্যাংকগুলো কাউন্টারের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকদের কোনো সেবা দিতে পারবে না এবং কোনো ফিজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্টও ইস্যু করতে পারবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির বিধিমালা অনুসারে, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম ১২৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন দেখাতে হবে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে অর্থাৎ আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে উত্থাপিত মূলধনের পরিমাণ পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে কম হলে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। আর মূলধন আসতে হবে অবশ্যই উদ্যোক্তাদের থেকে। এক্ষেত্রে প্রতি উদ্যোক্তার ন্যূনতম ৫০ লাখ টাকার শেয়ার মালিকানা নিতে হবে।

২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ২৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১ হাজার ৫৮১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২৯ কোটি ৪৪ লাখ। এর মধ্যে ৪৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এছাড়া ২৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, দশমিক ৬৪ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাকি ২৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।