রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী নানাভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। ইউরোপের বাজারে যেসব জাপানি কোম্পানি ব্যবসা করে, তারাও যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের ৭৭ শতাংশ জাপানি কোম্পানি যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে যে কোম্পানিগুলো উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত, তাদের ওপর প্রভাবটা পড়েছে বেশি। খবর কিয়োদো নিউজ।

১-১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালানো অনলাইন জরিপে দেখা যায় ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রভাবে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) চালানো এ জরিপে অংশ নেয় ১ হাজার ৪৪৫টি প্রতিষ্ঠান।

ক্ষতির কারণ হিসেবেও নানা সমস্যার কথা উঠে এসেছে। ৬৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জ্বালানির উচ্চমূল্যের কথা বলেছে। ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল যেমন প্লাস্টিক ও রাবারের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলেছে। অন্যদিকে ৫৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বলছে অবকাঠামো খাতে নানা ধরনের সংকট ও বাধার কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জেট্রোর কর্মকর্তা আকিকো উয়েদা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কেমন প্রভাব রাখছে তা এ জরিপের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। সত্যিটা হলো, ৮০ শতাংশ কোম্পানি বলেছে, তারা যুদ্ধ ও এর ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে এক ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে সেখান থেকে পালানোরই কোনো উপায় নেই। তারা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যেমন দামের কিছু দায় ক্রেতার দিকে ঠেলে দেয়া।

ইউক্রেন সংকটের কারণে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোয় শস্য রফতানি নিয়ে সংকট তৈরি হয়। যার কারণে অবধারিতভাবেই বাড়তে থাকে খাদ্যের দাম। খাদ্যসংশ্লিষ্ট শিল্পগুলো তো বটেই, পশু ও মাছের খামারগুলোও সংকটে পড়ে। গাড়ি নির্মাণ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও জ্বালানি, কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের সংকটে পড়ে। ফলে বাধ্য হয়ে বন্ধ রাখতে বা সীমিত করতে হয় উৎপাদন।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, সে-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জরিপে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, কিছু দাম ক্রেতার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, উৎপাদনের বাড়তি খরচ ভোক্তামূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে দেয়া হচ্ছে।