যুক্তরাজ্যে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কমেছে বাড়ির বার্ষিক মূল্য বৃদ্ধির হার। আর্থিক সংস্থা নেশনওয়াইডের তথ্য অনুসারে, দেশটিতে বাড়ির দাম ২০১২ সালের নভেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। খবর গার্ডিয়ান।
কভিড-১৯ মহামারীজনিত প্রথম লকডাউনের পর যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজার পুনরায় চালু হয় ২০২০ সালের জুন নাগাদ। তখন এক বছরের ব্যবধানে বাড়ির বার্ষিক দাম কমে ১ দশমিক ১ শতাংশ। সম্প্রতিক তথ্য বলছে, এক মাস আগের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে বাড়ির দাম কমেছে শূণ্য দশমিক ৫ শতাংশ। তবে বিল্ডিং সোসাইটির নিয়মিত জরিপ বলছে, গত ছয় মাস থেকেই যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
২০২২ সালের আগস্টের তুলনায় যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম কমেছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া সম্পত্তির গড় মূল্য কমেছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪০৬ ডলার, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৯০০ ডলার কম।
পদত্যাগকৃত প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের বিপর্যয়কর মিনি-বাজেটের সূত্র ধরে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। গৃহঋণের সুদ বৃদ্ধির ফলে তখন থেকেই বাড়ির দাম কমতে শুরু করে। নেশনওয়াইডের প্রধান অর্থনীতিবিদ রবার্ট গার্ডনার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কিছু সময় আগে আর্থিক বাজারের অবস্থা খানিকটা স্বাভাবিক হলেও আবাসন বাজারের কার্যকলাপ স্থবির হয়ে পড়েছে, যা পরিবারগুলোর ওপর আর্থিক চাপের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।’
বৈশ্বিক অস্থির পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশটির জনগণ। তবে বাড়ির দাম এমন একসময় কমেছে, যখন ক্রমবর্ধমান সুদের হার ও উচ্চ মূল্যস্ফীতিজনিত চাপের মধ্যে রয়েছে পরিবারগুলো।
নেশনওয়াইডের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, কবে নাগাদ আবাসন বাজারে গতি ফিরতে পেতে পারে, সে বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করাটা কঠিন"। কারণ অর্থনীতির বৈরি বাতাসকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে অনুমেয়।
যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দেশটির বন্ধকী হার স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী মাসগুলোয় শ্রম বাজার দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বিদ্যমান। যা বাড়ি ক্রয়ে আগ্রহী ক্রেতার জন্য আরো বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা যায়, যারা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী, তাদের প্রস্তাবিত দামের থেকে গড়ে ১৪ হাজার ডলার সমপরিমাণ মূল্য কমাতে হবে।
আবাসনবিষয়ক ওয়েবসাইট জুপলা অনুসারে, বাড়ি ক্রয়ে আগ্রহী ক্রেতাদের সংখ্যা কমছে। তাছাড়া বিক্রয়ের জন্য তালিকাভুক্ত ৪০ শতাংশের বেশি বাড়ির প্রস্তাবিত মূল্যও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।










