চলতি মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় গম উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির কৃষকরা জমি থেকে গম তোলার কাজ সম্পন্ন করেছেন। এবার তারা রেকর্ড পরিমাণ গম উত্তোলন করেছেন। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারক দেশটিতে উৎপাদন ৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। খবর রয়টার্স।
ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ায় এমন সময় রেকর্ড উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যখন কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিযোগিতার বাজার তীব্র। রাশিয়ায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ উৎপাদন বিশ্ববাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রেখেছে। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের এগ্রিবিজনেস অর্থনীতিবিদ ফিন জিবেল বলেন, আমরা এবার বিপুল পরিমাণ গম উত্তোলন করেছি। এর মধ্যে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় অঞ্চলগুলোয় উৎপাদন পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভালো।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া দেশটির শীর্ষ গম রফতানিকারক অঞ্চল। সিডনিভিত্তিক ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখান থেকে চলতি মৌসুমে রফতানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ৬০ লাখ টন। গম উত্তোলন শুরুর আগে প্রত্যাশা ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ টনের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী মাসগুলোয় অস্ট্রেলিয়া রেকর্ড পরিমাণ গম রফতানি করতে পারে। বন্দরগুলো এরই মধ্যে মার্চ ও এপ্রিলে গম জাহাজীকরণের জন্য পুরোপুরিভাবে বুকড হয়ে গিয়েছে। ক্রেতারা এখন মে মাসের জন্য বুকিং দিচ্ছেন।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনমিকস গমের উৎপাদন প্রাক্কলন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এবার অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণে গমের ফলনও ভালো হয়েছে। তবে বেশি বৃষ্টির কারণে গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ গমের উৎপাদন কম হয়েছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস এক প্রতিবেদনে জানায়, রেকর্ড উৎপাদনের কারণে বছরের প্রথমার্ধে এশিয়ায় শস্যটির চাহিদা মেটাতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করবে অস্ট্রেলিয়া। তবে এ সময় ইউক্রেন ও আর্জেন্টিনা থেকে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কমতে পারে ভারতের সরবরাহও।










