একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে হারিকেন লরার প্রভাবে উত্তোলন কমে আসা, অন্যদিকে করোনাকালীন মন্দার ধাক্কা সামলে বিশ্বজুড়ে চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা—এ দুইয়ের জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এ ধারাবাহিকতায় টানা পাঁচ মাস ধরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চাঙ্গা রয়েছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বাড়ছে টানা চার মাস ধরে। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ কার্যদিবসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। দিন শেষে নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৬ ডলার শূন্য ৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ২৮ সেন্ট বেশি। অন্যদিকে এদিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ব্যারেলে ১৮ সেন্ট। দিন শেষে নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৩ ডলার ১৫ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।

টানা পাঁচ মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। গত ৫ আগস্ট প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪৬ ডলার ২৩ সেন্টে উঠেছিল। মার্চের পর এটাই ছিল জ্বালানি পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে টানা চার মাস ধরে। এ ধারাবাহিকতায় ২৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৩ ডলার ৭৮ সেন্টে বিক্রি হয়। মূলত হারিকেন লরার কারণে উত্তোলন সীমিত হয়ে আসায় সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি পণ্যটির বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হারিকেন লরার জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলের কূপগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ৮২ শতাংশ কমে এসেছে। অন্যদিকে করোনা মহামারীর কারণে চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদায় যে পতন দেখা দিয়েছিল, তা ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।