দেশের হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোতে অতিথিদের সর্বোত্তম সেবা দেয়ার জন্য উন্নত হোটেল নির্মাণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সরকারের নীতি সহায়তার পাশাপাশি সেবার মান বাড়াতে দক্ষ জনবল বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। পর্যাপ্ত দক্ষ জনবলের অভাবে হোটেলগুলোতে বিশ্বমানের সেবা দেয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা। এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির প্রক্রিয়া আরো জোরালো করার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এফবিসিসিআইর বোর্ড রুমে হোটেল ও গেস্টহাউস বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির এক বৈঠকে এ সব কথা বলেন তারা।
এ সময় ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতি বিবেচনায় মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই বইয়ে পর্যটন শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এফবিসিসিআইর সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, পর্যটন আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আমাদের পর্যটন খাতকে আরো সমৃদ্ধ করতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবন, খাগড়াছড়িসহ দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রগুলোকেও কীভাবে আরো আধুনিক ও উন্নত করা যায় সে ব্যাপারে কাজ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে তিনি । এছাড়াও পর্যটন খাতের উন্নয়নে এফবিসিসিআইর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, পর্যটন শিল্পের জন্য দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময় তিনি পর্যটন এলাকাগুলোতে হোটেল ও সেবার মান আরো উন্নত করার তাগিদ দেন।
কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ ফখরুস সালেহীন নাহিয়ান বলেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বড় হোটেল মোটেল নির্মাণের সময়ে উচ্চ ডিউটি দিয়ে নির্মাণ সামগ্রী আমদানি করতে হয়। যার ফলে হোটেলের খরচ অনেক বেড়ে যায়। হোটেল নির্মাণের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত গ্লাস, ফার্নিচার ইত্যাদি আমদানি করা গেলে স্বল্প খরচে পর্যটকদের সেবা দেয়া সম্ভব হবে।
এ সময় তিনি পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে পর্যটন খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে ৩০ শতাংশ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন।
কমিটির চেয়ারম্যান ও সায়মন বিচ রিসোর্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাবেদুর রহমান বলেন, প্রতিটি জেলার নিজস্ব কিছু সংস্কৃতি আছে। হোটেলগুলোতে স্যুভেনির আকারে সেগুলো পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারলে এ খাতের ব্যবসা আরো বাড়তে পারে। এছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ কমিয়ে ৮ শতাংশ করা হলে ভোক্তা বা পর্যটকরা উপকৃত হবে।
কো-চেয়ারম্যান ইরাদ আলি বলেন, হোটেলগুলোতে অ্যালকোহল আমদানির ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে ৪০ ভাগ ও স্থানীয় পর্যায়ে ৬০ ভাগ আমদানি করতে হয়। যা আমাদের জন্য কষ্টকর। বিদেশ থেকে আরো বেশি আমদানির অনুমতি দেয়া উচিত।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর পরিচালক ও হোটেল স্টার প্যাসিফিকর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফালাহ উদ্দিন আহমেদ, এফবিসিসিআইর পরিচালক হাফেজ হাজী হারুন অর রশীদ, সেরনিয়াবাত মঈন উদ্দিন আব্দুলাহ, মহাসচিব মো. আলমগীরসহ অনেকে।










