ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের তিন দিনের বেইজিং সফরে ২২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) মার্কোসের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। 

গতকাল বুধবার (৪ জানুয়ারি) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল মার্কোসের। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বাইরে চীনেই মার্কোর্সের প্রথম সফর। দক্ষিণ চীন সাগর প্রতিযোগিতার মধ্যে মার্কোসের এ সফর চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিত গভীর করল। 

নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ১৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার, ইলেকট্রিক যান ও খনিজ প্রক্রিয়াকরণে ৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার ও কৃষিতে ১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। এ ছাড়া চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জলসীমায় ফিলিপাইনের জেলেদের প্রবেশের সুযোগও রয়েছে। 

দীর্ঘস্থায়ী সমুদ্রবিরোধ নিরসনে মার্কোস তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে শিকে পুনরায় আলোচনা শুরুর জন্য স্বাগত জানিয়েছেন। এর আগে সাংবিধানিক ও সার্বভৌমত্বগত বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। 

মার্কোস শিকে বলেছেন, ‘আমরা আশা করি আমাদের আলোচনা ফল বয়ে আনবে।’

চীন দাবি করে দক্ষিণ চীন সাগর প্রায় পুরোটাই তাদের। কিন্তু এ দাবি মানতে নারাজ ফিলিপাইন, ব্রুনেই, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনাম। বেইজিং ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায় মানতেও নারাজ। 

মার্কোস জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ‘আগামীতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য করণীয়, সম্ভাব্য ভুল ও যেসব বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি আছে সেগুলো যেন বড় সমস্যা তৈরি করতে না পারে’ সে বিষয়ে আলাপ হয়েছে।

বুধবার (৪ জানুয়ারি) কৃষি, অবকাঠামো, উন্নয়ন সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পর্যটনসহ মোট ১৪টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শি ফিলিপাইনে চীনা বিনিয়োগকে সমর্থন করা থেকে শুরু করে প্রতিবেশীকে গ্রাম ও কৃষি প্রযুক্তি, মৌলিক শিক্ষা, আবহাওয়া ও মহাকাশের পাশাপাশি ভ্যাকসিনের উন্নয়নে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মার্কোসের পূর্বসূরি রদ্রিগো দুতের্তের অধীনে চীন-ফিলিপাইন সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। ২০১৬ সালের অক্টোবরে দুতের্তের প্রথম রাষ্ট্রীয় চীন সফরে ২৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ ও বিনিয়োগের চুক্তি হয়েছিল। যার মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছিল খুবই কম।   

মার্কোসের প্রয়াত পিতা স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোস সিনিয়র ১৯৭৫ সালের জুনে চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তার আগের বছর, জুনিয়র মার্কোস তার মা সাবেক ফার্স্ট লেডি ইমেলদা মার্কোসের সঙ্গে চীন সফরে গিয়েছিলেন। সেসময় তারা মাও সেতুংয়ের সাথে দেখা করেছিলেন। যেটি আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। 

ম্যানিলা থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুযায়ী, মার্কোসকে শি বলেছেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট (মার্কোস), আপনার বর্তমান সফরটি ইতিহাসকে সম্মান জানানোর জন্য একটি সফর, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটি ভবিষ্যতকে উন্মুক্ত করবে।’