রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেও দেশের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ভারতীয় পেয়াঁজের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে কমতে শুরু করেছে দেশী পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়লেও পাইকারি পর্যায়ে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে ৮-১০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে দেশী পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতির দিকে। তবে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় দাম বেড়েছে। এছাড়া নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী কী ধরনের পদক্ষেপ নেন, তার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জে গতকাল পাইকারি পর্যায়ে দেশীয় মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে মানভেদে ৬৫-৭০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকা কেজি দরে। আর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের একই জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল প্রায় ১০০ টাকা দরে। অর্থাৎ গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম কমেছে প্রায় ৩৫ টাকা। পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, শিবগঞ্জ, মাগুরা, রাজশাহীসহ অন্যান্য এলাকা থেকে পুরোদমে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। তাই সামনে দাম আরো কমে আসার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দাম কমলেও তা গত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।

অন্যদিকে বাজারের তথ্যমতে, রফতানি বন্ধ রাখার প্রভাবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ১৫০-১৬০ টাকার ঘরে। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। এতে প্রত্যাশা করা হচ্ছিল, ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকার নিচে নেমে আসবে। গত সপ্তাহের শুরুতে (শনিবার) ভারতীয় পেঁয়াজ ৯৫-১০০ টাকায় নামলেও তা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। গতকাল খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোয় আমদানীকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১১৫-১২০ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে এ পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৫-২০ টাকা।

এদিকে খাতুনগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মসলার বিক্রি অনেকটাই কমে এসেছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা ও রসুন বিক্রি হয়েছে মানভেদে ২২০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে রসুনের দাম ছিল ১৯০-২০৫ টাকার ঘরে। এ হিসেবে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পণ্যটির দাম বেড়েছে অন্তত ১৫ টাকা। তবে আদার দাম সপ্তাহখানেক ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন পাইকারি বাজারগুলোয় দেশী পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু আকারের তারতম্যের কারণে ভোক্তা পর্যায়ে এ দেশী পেঁয়াজের চাহিদা কম। তবে বাজারে বড় আকারের দেশী পেঁয়াজের ভালো চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ দেশী পেঁয়াজের আকারই ছোট হয়ে থাকে। এ কারণে বাজারে এখনো ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা বেশি।

খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পণ্যের দাম নিয়ে কিছুটা সংশয়ে আছেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রীও পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে নবগঠিত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমদানি ও রফতানির ক্ষেত্রে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় তার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে। কিন্তু ভারতীয় নাসিক জাতের পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি। তবে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ যেভাবে বাড়ছে, তাতে সামনে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা আছে।’

অন্যান্য মসলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন বাজারে মসলার বিক্রি তেমন নেই। আদার বাজার স্থিতিশীল আছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় খাতুনগঞ্জে এখন পেঁয়াজের দাম একটু বেশিই। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম আরেকটু কমলে অর্থাৎ ৮০ টাকায় নামলে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি বেশি হতো। দেশীয় পেঁয়াজের মান ভালো হলে ভারতসহ অন্যান্য দেশের পেঁয়াজের ওপর আমাদের নির্ভরতা কমে আসত।’

বাজার তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টনের। সর্বশেষ রবি মৌসুমে দেশে রেকর্ড ৩৪ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তবে পচনশীল পণ্য হওয়ায় ও সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় ভোক্তা পর্যায়ে এক-চতুর্থাংশ পেঁয়াজ নষ্ট কিংবা শুকিয়ে ওজন কমে যায়। এসব কারণে আমদানিমুখী হতে হয় সরকারকে।