পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাশা ডেনিমস লিমিটেডের পর্ষদ কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে পর্ষদ জিএ গার্মেন্টস লিমিটেডে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক মূল্যসংবেদনশীল তথ্যে এসব বিষয় জানিয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি।
তথ্য অনুসারে, শাশা ডেনিমসের পর্ষদ কোম্পানির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ১০৫টি লুম প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লুমগুলো ঢাকা ইপিজেডের বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) বরাদ্দকৃত ২৮৯ থেকে ২৯২ নম্বর প্লটে স্থাপন করা হবে। এ মেশিনগুলো প্রতিস্থাপন করার পর কোম্পানির বার্ষিক রফতানি আনুমানিক ৩৫০ কোটি টাকা বাড়বে।
এদিকে কোম্পানির পর্ষদ জিএ গার্মেন্টস লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুক্তি অনুসারে এ বিনিয়োগের অর্থ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানন্তর করা হবে। এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে আগামী ৫ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) আহ্বান করেছে কোম্পানিটি। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১১ মে।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) শাশা ডেনিমসের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯১ পয়সা। আর সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৭৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৭ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৫০ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শাশা ডেনিমসের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১ টাকা ২ পয়সা সমন্বিত ইপিএস হয়েছিল। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফএস) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৭ টাকা ৬৬ পয়সায়, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ধনাত্মক ১ টাকা ৪৩ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪০ টাকা ২৩ পয়সায়। ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।
মুনাফা ও নগদ প্রবাহের উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতির বিষয়ে শাশা ডেনিমসের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১০ সালে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি এনার্জিস পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডের (ইপিসিএল) মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের ব্যবসায় যুক্ত হয় তারা। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ২০১৯ সালের জুলাই থেকেই কোম্পানিটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। ইপিসিএলের পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুসারে স্বাধীন ভ্যালুয়ার হুদা ভাসি চৌধুরী অ্যান্ড কোম্পানির মাধ্যমে সম্পদ ও মজুদের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা হয়। স্বাধীন ভ্যালুয়ারের প্রতিবেদন অনুসারে গত বছরের ৩০ জুন শেষে স্থায়ী সম্পদ ও মজুদের ন্যায্যমূল্য অনুসারে স্থায়ী সম্পদ ও মজুদের পুনর্মূল্যায়ন বাবদ ক্ষতি হয়েছে ১২২ কোটি ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ কারণে শাশা ডেনিমসের সমন্বিত নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায়। এছাড়া ইপিসিএলের ব্যাংকঋণের দায় ও সুদ পরিশোধের কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির নগদ প্রবাহ অনেক কমে গেছে।
২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শাশা ডেনিমসের অনুমোদিত মূলধন ২২৫ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৪১ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩০১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১৪ কোটি ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৯১০। এর মধ্যে ৩৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে, ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও ৩৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল শেয়ারটির সমাপনী দর ছিল ২৭ টাকা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ২৪ টাকা ৬০ ও ৩১ টাকা ৯০ পয়সা।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে এ শেয়ারের মূল্য-আয় (পিই) অনুপাত ১০ দশমিক ১৫।










