সিমেন্ট ক্লিংকার আমদানিতে শুল্ক না কমালে ভ্যাট আদায়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)। রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক বাজেট আলোচনায় এ কথা জানায় সংগঠনটি। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। বিসিএমএর পক্ষ থেকে বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনটির প্রথম সহ-সভাপতি ইমরান করিম। অনুষ্ঠানে এনবিআরের ভ্যাট, কাস্টম ও আয়কর নীতি বিভাগের সদস্য, প্রথম সচিব ও দ্বিতীয় সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

বিসিএমএ জানায়, ক্লিংকার আমদানিতে শুল্ক ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু বিসিএমএ ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। এ ট্যারিফ বাড়ানোর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে সিমেন্টের মূল্য বেড়েছে এবং তারা এ দামে সিমেন্ট কিনছেন না। যার ফলে সিমেন্টের বিক্রি কমে যাচ্ছে।

বিক্রির হার কমে যাওয়া ভ্যাট আদায়েও বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং ভবিষ্যতেও ফেলবে। একই সঙ্গে সিমেন্টের বিভিন্ন কাঁচামাল ও ফিনিশড পণ্যে অগ্রিম আয়কর কমানোর দাবি জানায় সংগঠনটি।

বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রশিদ জুয়েল বলেন, টার্নওভার ট্যাক্সের কারণে ব্যবসায় চাপের সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হলেও রিটার্ন দাখিলের পর আয়কর কর্মকর্তারা তা মানতে চান না, তারা রিটার্ন ডিজঅ্যালাউ করে টার্নওভার ট্যাক্স দশমিক ৬ শতাংশে নিয়ে যায়। এ পরিমাণ মুনাফা সবসময় করা যায় না। আর এ ট্যাক্স আয়কর না বিক্রয় কর হিসেবে নেয়া হচ্ছে তা জানানো উচিত। তবে টার্নওভার ট্যাক্স হিসেবে না নেয়ার অনুরোধ করেন তিনি। এটি বিবেচনা করার জন্য তিনি এনবিআর চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়া প্রাক বাজেট আলোচনায় আরো প্রস্তাবনা তুলে ধরে স্টিল বিল্ডিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এসবিএমএ), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএসিআই), রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ), বাংলাদেশ রেডিমিক্স কনক্রিট অ্যাসোসিয়েশন, স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, আইসিএমএবি, আইসিএসবিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন।