বিলিয়নেয়ারের সংখ্যার দিক থেকে সম্প্রতি এক ধাপ উঠে এসেছে ভারতের বাণিজ্যিক শহর মুম্বাই। একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং। গবেষণা সংস্থা হুরুন রিপোর্টের ‘গ্লোবাল রিচ লিস্ট ২০২৪’ অনুযায়ী, বিলিয়নেয়ারের সংখ্যায় এখন এশিয়ার শীর্ষ শহর মুম্বাই। এছাড়া মোট ২৭১ জন বিলিয়নেয়ার নিয়ে বৈশ্বিকভাবে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। খবর দ্য হিন্দু।
বিলিয়নেয়ারের সংখ্যায় ভারতে এ ঊর্ধ্বগতি দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর মধ্যে মুম্বাইকে ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোট ৩ হাজার ২৭৯ জন বিলিয়নেয়ারের তথ্য উঠে এসেছে হুরুন রিপোর্টের প্রতিবেদনে। এর মধ্যে গত বছরের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ১৬৭ জন। ৮১৪ জন বিলিয়নেয়ার নিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীন। অবশ্য একই সময়ে দেশটিতে ১৫৫ জন বিলিয়নেয়ার তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছেন। অন্যদিকে ভারতে নতুন করে ১০০ জন বিলিয়নেয়ার যুক্ত হয়েছেন।
বিলিয়নেয়ার বসবাস করে এমন ১০ শীর্ষ শহরের তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে ভারতের আলাদা অবস্থান তৈরির বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।
বরাবরের মতো শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথমে রয়েছেন ইলোন মাস্ক। দশম স্থানে রয়েছেন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি।
বিলিয়নেয়ার সমৃদ্ধ ১০টি শহরের মধ্যে রয়েছে নিউইয়র্ক, লন্ডন, মুম্বাই, বেইজিং, সাংহাই, শেনজেন, হংকং, মস্কো, নয়াদিল্লি ও সান ফ্রান্সিসকো।
হুরুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ২০২৩ সালে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বছর পার করেছে। এ সময় দেশটিতে নতুন করে ১০০ জন বিলিয়নেয়ার যুক্ত হয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। একই সময়ে বেইজিংকে ছাড়িয়ে এশিয়ার শীর্ষ বিলিয়নেয়ারের শহর হয়েছে মুম্বাই।
ধনকুবেরের সংখ্যায় শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, ইতালি, ফ্রান্স ও ব্রাজিল। শীর্ষ ১০ বিলিয়নেয়াররা হলেন ইলোন মাস্ক (টেসলা), জেফ বেজোস (অ্যামাজন), বেহনা আহনোঁ (এলভিএমএইচ), মার্ক জাকারবার্গ (মেটা), ল্যারি এলিসন (ওরাকল), ওয়ারেন বাফেট (বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে), স্টিভ বলমার (মাইক্রোসফট), বিল গেটস (মাইক্রোসফট), ল্যারি পেজ (অ্যালফাবেট) ও মুকেশ আম্বানি (রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ)।
এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে দেখা যায়, অতিধনীর বৃদ্ধির হারে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। গবেষণা সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স ও নিউ ওয়ার্ল্ডের ‘ইউএসএ ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৪’ অনুসারে, গত পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অতিধনীর সংখ্যা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ, যা চীনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দ্রুত।










