দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) প্রায় ১৯২ কোটি টাকার ভুট্টা আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানির পরিমাণ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে সম্প্রতি দেশের বাজারে নিম্নমুখী চাহিদার কারণে শস্যটির দাম কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে। এ কারণে আমদানিও কিছুটা নিম্নমুখী।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-জানুয়ারি পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের ৫৭ হাজার টন ভুট্টা আমদানি করা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময় ২৩ হাজার ৩৮৯ টন আমদানি হয়েছিল।
দেশের বিভিন্ন ফিডমিলে ভুট্টা সরবরাহকারী বেলাল হোসেন বলেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে ভুট্টার দাম কেজিতে ২-৩ টাকা করে কমেছে। গত সপ্তাহে যে ভুট্টা আমরা বন্দর থেকে ৩৭-৩৮ টাকা করে কিনেছি তা এখন ৩৫-৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম কমলেও ফিডমিলগুলো ভুট্টা ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। বাজারে দেশীয় নতুন ভুট্টা ওঠার পাশাপাশি পর্যাপ্ত মজুদ এর প্রধান কারণ।’
হিলি স্থলবন্দরের ভুট্টা আমদানিকারক সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে ভারত থেকে প্রতি টন ভুট্টা ৩১০-৩২৫ ডলারে আমদানি করা হচ্ছে। সব খরচ মিলিয়ে বন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি ভুট্টা ৩৪ টাকার ওপরে পড়তা পড়ছে। আগে দাম কিছুটা বেশি থাকলেও বর্তমানে দাম কমতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি ভুট্টা ৩৭-৩৮ টাকা থেকে কমে ৩৫-৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভুট্টা উঠতে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই ভুট্টা উত্তোলন সম্পন্ন হবে। বাজারে দেশীয় ভুট্টার সরবরাহ বাড়ায় দাম কম। এ কারণে অনেক ফিডমিল আমদানীকৃত ভুট্টা ক্রয় কমিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ভারতের বাজারেও ভুট্টার দাম আগের চেয়ে কমতে শুরু করেছে। আগামী মার্চ ও এপ্রিলে দেশের বাজারে আমদানীকৃত ভুট্টার চাহিদা কম থাকবে। ওই সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানিও কমে আসবে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ভুট্টার আমদানি অব্যাহত থাকলেও আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আগে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ-সাত ট্রাক করে ভুট্টা আমদানি হলেও তা কমে দুই-তিন ট্রাকে নেমেছে।’









